তাজা খবরথানার সংবাদনারায়ানগঞ্জ সদর থানামহানগরশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

৭ দফা দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
বন্ধ ঘোষিত সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড অবিলম্বে পুনরায় চালু, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও আইনানুগ সকল পাওনাদি পরিশোধসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে  ৩০ জুন মঙ্গলবার, দুপুর ২ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেডের শত শত শ্রমিক নারায়ণগঞ্জ শহরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে মালিকপক্ষ শ্রমিক ইউনিয়ন কিংবা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের পূর্বে কোনো প্রকার অবহিত না করে, রাতের অন্ধকারে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এবং অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। পরদিন সকালে শ্রমিকরা যথারীতি কাজে এসে কারখানার গেটে বন্ধের নোটিশ টাঙানো দেখতে পান। শ্রমিকদের দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ শ্রম আইন ও প্রচলিত বিধিবিধানের পরিপন্থী এবং শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার ও জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত।
বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম।
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সভাপতি হাসনাত কবির, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ, গাবতলী পুলিশ লাইন শিল্পাঞ্চল শাখার সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন, ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক রোহানসহ কারখানার শ্রমিকবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে এবং শ্রম আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এভাবে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া চরম অন্যায়, অমানবিক ও বেআইনি। এতে শত শত শ্রমিক ও তাদের পরিবার আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দেশে যখন ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তখন একটি চলমান কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের জীবনে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি করেছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকার একদিকে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগের কথা বলছে, অন্যদিকে মালিকপক্ষের এমন একতরফা ও বেআইনি সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার ওপর নির্মম আঘাত হেনেছে। তারা শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে শ্রমিকরা নিম্নোক্ত ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন:
১। অবিলম্বে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে হবে।
২। শ্রমিকদের সকল বকেয়া মজুরি অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
৩। ভবিষ্যতে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে সকল বর্তমান শ্রমিককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে পুনর্বহাল করতে হবে।
৪। শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সকল আইনানুগ পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করতে হবে।
৫। সকল শ্রমিককে নিয়োগপত্র, সার্ভিস বুক এবং চাকরির প্রত্যয়নপত্র প্রদান করতে হবে।
৬। শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি, মিথ্যা মামলা বা মামলা করার হুমকি প্রদান বন্ধ করতে হবে।
৭। কোনো শ্রমিককে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা যাবে না এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য ও আইনসঙ্গত দাবিসমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে বৃহত্তর শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং এর দায়ভার সম্পূর্ণরূপে মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।

Related Articles

Back to top button