তাজা খবরমহানগররাজনীতিশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ
অবৈধভাবে কারখানা বন্ধ ও ৫৯ শ্রমিক বরখাস্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবআইল এলাকাস্থ রেডিকেল ডিজাইন লিমিটেড কারখানার গার্মেন্টস বিভাগ অবৈধভাবে বন্ধ ঘোষণা এবং ৫৯ জন শ্রমিককে কারণ দর্শানো নোটিশসহ বরখাস্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ৩টায় শ্রমিকদের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ শহরে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নীট মালিক সংগঠন বিকেএমইএ-এর কার্যালয়ের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কারখানার শ্রমিক সোলাইমান।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সহ-সভাপতি হাসনাত কবির, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, মালিকপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩ (১)-এর অপব্যবহার করে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কারখানার গার্মেন্টস বিভাগ বেআইনিভাবে বন্ধ ঘোষণা করে, যা ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর করা হয়। একইসাথে গত ৮ এপ্রিল ৫৯ জন শ্রমিককে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদানসহ বরখাস্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্ত শ্রম আইন পরিপন্থী এবং শ্রমিকদের জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের হয়রানি করতে অহেতুক সাময়িক বরখাস্ত ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে, যা শ্রমিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। অবিলম্বে এসব অন্যায় কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল শ্রমিকরা হাতে হাতে ও রেজিস্ট্রার্ড ডাকযোগে ১১ দফা দাবিনামা প্রদান করেন এবং একই দিনে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুলিপি প্রেরণ করেন। এছাড়া ৯ এপ্রিল শ্রমিকরা নারায়ণগঞ্জ জেলা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক এবং বিকেএমইএ-এর সভাপতির বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন।
সমাবেশ থেকে শ্রমিকরা ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন। প্রধান দাবিসমূহ হলো – অবিলম্বে বন্ধ কারখানা চালু করা, বরখাস্তকৃত ৫৯ জন শ্রমিককে চাকরিতে পুনর্বহাল, সময়মতো বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের সাথে অসদাচরণ বন্ধ করা, হাজিরা বোনাস ৮০০ টাকা বৃদ্ধি করা, শ্রম আইন অনুযায়ী সকল অধিকার নিশ্চিত করা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি প্রদান সত্ত্বেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে কারখানা চালু ও শ্রমিকদের পুনর্বহাল না করা হলে শ্রমিকরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।
