তাজা খবরথানার সংবাদনারায়ানগঞ্জ সদর থানাশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

শহীদ নগরে চাঁদার দাবিতে ভবন দখলের পাঁয়তারা, স্কুলে ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন ১৮নং ওয়ার্ডের শহীদ নগর এলাকায় চাঁদার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক ভবন দখলের পাঁয়তারা এবং ভবনে অবস্থিত একটি স্কুলে ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে রাবেয়া সুলতানা ও হোসেন মিলন গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে।

‎এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসাঃ পান্না আক্তার (৪৭), পিতা- আবুল কাসেম, মাতা- হোসনে আরা বেগম, সাং- মসিনাবন্দ পূর্ব, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল, একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং- ২২(২)২৬।

‎মামলার বিবরণে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন ১৮৮ হোল্ডিং, শহীদ নগর ২নং গলিস্থ একটি ভবন প্রায় ১৬ বছর আগে ক্রয় করা হয় এবং পরবর্তীতে ভবনটি তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে ভবনটি জনাব মোঃ হেলাল উদ্দিন (৫৮), পিতা- মৃত আব্দুল শুকুর, সাং- দিয়ারা মসজিদ সংলগ্ন, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন এলাকায় মাসিক ভাড়ার ভিত্তিতে ব্যবহার করে আসছেন। তিনি সেখানে “এরাবিয়ান স্কুল বাংলাদেশ” নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।

‎অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে পান্না আক্তারের কাছে ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা প্রদান না করলে স্কুল পরিচালনায় বাধা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তার অনুপস্থিতিতে অভিযুক্তরা স্কুলে অনধিকার প্রবেশ করে।

‎মামলায় বলা হয়, ১নং বিবাদী রাবেয়া সুলতানার নির্দেশে অন্যরা প্রতিষ্ঠানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং ভাঙচুর চালায়। এতে আনুমানিক ৫৫,০০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ব্যবহৃত ২০টি হাতলযুক্ত চেয়ার (মূল্য ৬০,০০০ টাকা), ১টি রিভলভিং চেয়ার (৬,০০০ টাকা), ৪টি বেঞ্চ (১০,০০০ টাকা), ২টি টিচার টেবিল (১৬,০০০ টাকা), ১টি সেক্রেটারি টেবিল (১৫,০০০ টাকা) এবং ১টি আসুস ব্র্যান্ডের ডেস্কটপ কম্পিউটার সেট (৪৬,০০০ টাকা)সহ মোট প্রায় ১,৫৩,০০০ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

‎ঘটনার খবর পেয়ে পান্না আক্তার ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, হুমকি প্রদান করে এবং মারধরের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তিনি রক্ষা পান।

‎এদিকে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে সদর মডেল থানার পুলিশের সহায়তায় প্রকৃত মালিক আলী হোসেন মেম্বারের সহধর্মিণী পান্না আক্তার ভবনটি উদ্ধার করতে গেলে রাবেয়া সুলতানার ছেলে-মেয়েরা ভবনটি নিজেদের দাবি করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

‎পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ দখলদারদের ভবন থেকে বের করে ভবনটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয়।

‎সদর থানার ওসি জানান, যথাযথ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মালিকের নিকট ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

‎মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে—১) রাবেয়া সুলতানা (৩৯), স্বামী- হোসেন মিলন ২) হোসেন মিলন (৪৮), পিতা- মৃত সুরুজ মিয়া ৩) মোঃ মামুন হোসেন (৪০), পিতা- মৃত সুরুজ মিয়া ৪) মোঃ জাবেদ (৪৫), পিতা- খালেক বেপারী ৫) সবুজ (৩০), পিতা- অজ্ঞাত এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button