তাজা খবরথানার সংবাদফতুল্লা থানাশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে সোর্স জাহাঙ্গীরের মাদক ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আলোচিত পুলিশ সোর্স জাহাঙ্গীর ওরফে কালা জাহাঙ্গীর। পুলিশ সোর্স কালা জাহাঙ্গীর ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের স্পট বসিয়ে ইয়াবা ও গাঁজার রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। পুলিশের সাথে সখ্যতা থাকায়, দীর্ঘদীন ধরে মাদকের এ রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। থানায় যোগদানের পর পরই মাদক নিমূর্লে জিরোটলারেন্স নীতি অনুসরন করা ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রেজাউল হক দিপু মাদক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করেন। অথচ, একদিকে ওসি রেজাউল হক দিপুর মাদক বিরোধী অবস্থান অন্যদিক এনায়েতনগর ইউনিয়নের মাদকের গডফাদার পুলিশ সোর্স জাহাঙ্গীরের সাথে পুলিশের সখ্যতায় সাধারন মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি ওসি রেজাউল হক দিপুর জেহাদ ঘোষনা আইওয়াশ মাত্র? অণ্যথায় কিভাবে একজন মাদকের গডফাদার পুলিশ সোর্স জাহাঙ্গীর কিভাবে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন এমনকি পুলিশের গাড়ীতে করে এনায়েতনগর এলাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ায়? দীর্ঘদীন ধরে প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজার রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসলেও কেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না? এমনকি এনায়েতনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সোর্স জাহাঙ্গীরের নিয়ন্ত্রনে থাকা মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদ এবং প্রকাশ্যে কিভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন? আর পুলিশের সাথে সখ্যতা রেখে সোর্স জাহাঙ্গীরের মাদক ব্যবসার কারনে কি ক্ষুন্ন হচ্ছে না পুলিশের ভাবমূতি? এমন অনেক প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারন মানুষের পক্ষ থেকে। আর সাধারন মানুষের প্রশ্নের উত্তরই হচ্ছে বিতর্কিত পুলিশ সোর্স জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে পুলিশের ভাবমূতি উজ্জল করা। স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করে বলেন, পুলিশকে মিস গাইডের মাধ্যমে মাদক ডিলার সোর্স জাহাঙ্গীর তার স্বার্থ হাছিল করে আসলেও হয়তোবা সোর্স জাহাঙ্গীরের বিষয়ে অনেক কিছুই অবগত নয় স্থানীয় প্রশাসন! পুলিশকে মিথ্যা ও ভূল বুজিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গুরানো হচ্ছে বলেও স্থানীয় সাধারন মানুষ মনে করেন।

জানা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের আমতলা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী মোবারক ও কুত্তা সুমন, ঢালীপাড়া মুন্সিবাড়ী এলাকার শওকত ও সানি, মাওলা বাজার এলাকায় বুড়ির নেতৃত্বে গাঁজা ব্যবসা, ধর্মগঞ্জ পাকাপুল এলাকায় ইয়াবা ইব্রাহিম ও কাইয়ুম, চতলার মাঠ এলাকায় ইয়াবা নূরা ও মিজানের নেতৃত্বে প্রতিদিন শতশত পিচ ইয়াবা এবং কয়েক কেজি গাঁজা খুঁচরা বিক্রি করে আসছে পুলিশ সোর্স জাহাঙ্গীরের নিয়ন্ত্রনে থাকা উল্লেখিত মাদক ব্যবসায়ীরা। পুলিশ সোর্স জাহাঙ্গীরের নিয়ন্ত্রনে পরিচালিত হওয়া মাদকের স্পটগুলোতে ঝামেলাহীনভাবে মাদক সরবরাহ করতে পারায় স্থানীয় মাদক সেবীদের আনাগোনাও বেশ চোখেঁ পড়ার মত। মাদকের গডফাদার পুলিশ সোর্স জাহাঙ্গীরের মাদকের ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয় যুব সমাজ। এলাকায় বৃদ্ধি পাচ্ছে চুরি ছিনতাইয়ের মত ভয়ানক ঘঁনা। এমনকি, দীর্ঘদীন ধরে চলে আসা সোর্স জাহাঙ্গীরের মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই হতে হচ্ছে নানাভাবে হয়রানী। সোর্স জাহাঙ্গীরের মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া যুবকদের উল্টো মাদক ব্যবসায়ী অপবাদ দিয়ে নানাভাবে পুলিশি হয়রানী করা হয়ে থাকে বলেও নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এশাধিক মানুষ জানিয়েছেন। দীর্ঘদীন ধরে চলমান সোর্স জাহাঙ্গীরের মাদকের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলারও সাহস পাচ্ছে না। এনায়েতনগর ইউনিয়নকে মাদক মুক্ত এবং মাদকের কড়াল থাবা থেকে যুব সমাজের ভবিষৎ রক্ষার্থে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন এমনটাই প্রত্যাশা জানিয়ে জরুরী ভিত্তিতে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এনায়েতনগরবাসী।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি রেজাউল হক দিপু বলেন, পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরন করে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে প্রতিদিন মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতারও হচ্ছে। পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন মাদক ব্যবসায়ী মাদক কারবার চালিয়ে যাবে আর পুলিশের বদনাম হবে তা আমি মেনে নেব না। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশের ভূমিকা সবার আগে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেন।

Related Articles

Back to top button