তাজা খবরথানার সংবাদফতুল্লা থানাশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রি: ফতুল্লার সুন্দরবন রেস্তোরাঁর মালিক গ্রেপ্তার

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, মজুত ও বিক্রির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তল্লা এলাকার ‘সুন্দরবন রেস্তোরাঁ’র মালিক জোবায়ের হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিরাপদ খাদ্য আইনে দায়ের হওয়া মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলামের নির্দেশে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা কার্যালয় নারায়ণগঞ্জের নিরাপদ খাদ্য অফিসার সুরাইয়া সাইদুন নাহার ও সদর উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. শাহজাহান হালদারসহ একটি দল ফতুল্লার তল্লা হোসেন সরদার রোডের নতুন কোর্ট এলাকায় অবস্থিত সুন্দরবন রেস্তোরাঁ সরেজমিনে পরিদর্শন করে।

পরিদর্শনকালে দেখা যায়, রান্নাঘরের সামনে ড্রেনের পাশে খোলা ডাস্টবিনের সঙ্গে মুরগির মাংস রাখা হয়েছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে, ডোবার পাশে, খোলা সিলিংয়ের নিচে কীটপতঙ্গ রোধের ব্যবস্থা ছাড়াই রান্না চলছে। খাবার খোলা অবস্থায় কাঠের তাক ও ফ্রিজে সংরক্ষণ, কাঁচা ও রান্না করা খাবার একত্রে রাখা, ময়লা কাপড় দিয়ে খাবার ঢেকে রাখা, নন-ফুডগ্রেড প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার সংরক্ষণ ও ময়লা পানিতে তৈজসপত্র ধোয়ার মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।

এছাড়া গুদামঘরে ফুডগ্রেড নয় এমন কেওড়া জল পাওয়া যায়। পরিবেশনস্থলে খাবারে মাছির উপস্থিতি ও নোংরা পরিবেশে সালাদ প্রস্তুত করতে দেখা যায়। ওই সময় রেস্তোরাঁ থেকে বাসি গরু ও মুরগির মাংস এবং কেওড়া জল জব্দ করা হয়। কোল্ড চেইন মেনে মাংসের দুটি নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা যায়, রান্না করা গরুর মাংসের নমুনায় অনুজীবের পরিমাণ টোটাল প্লেট কাউন্ট ২,৮৪০,০০০। নিরাপদ খাদ্য (দূষণকারী জীবাণু নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ) প্রবিধানমালা, ২০২১ অনুযায়ী যার সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১০,০০০।

এসব ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ২৩, ৩০ ও ৩৩ ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে, যা ৫৮ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ বিষয়ে গত ২৩ মে ২০২৬ নিরাপদ খাদ্য অফিসার সুরাইয়া সাইদুন নাহার বাদী হয়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, নারায়ণগঞ্জে রেস্তোরাঁ মালিক জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগনামা দাখিল করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলাম আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এই অভিযানে এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জনকল্যাণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃত জোবায়ের হোসেন ফতুল্লা মডেল থানার হেফাজতে আছেন বর্তমানে।

Related Articles

Back to top button