তাজা খবরফতুল্লা থানারাজনীতিশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

শহীদ জিয়ার স্মরণসভা ঠেকাতে ‘কৌশলী নিষেধাজ্ঞা’! আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

বিশেষ প্রতিনিধি : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় আয়োজিতব্য স্মরণসভাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠান আয়োজনের ঠিক আগ মুহূর্তে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে জারি করা একটি ‘জরুরি নোটিশ’কে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিত ও কৌশলগতভাবে তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ নোটিশ জারি করা হয়েছে।

সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির প্যাডে প্রকাশিত জরুরি নোটিশে বলা হয়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পূর্বানুমতি ছাড়া বার ভবনের অভ্যন্তরে কিংবা প্রধান ফটকের সামনে কোনো সভা, সেমিনার, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ বা অনুরূপ কর্মসূচি আয়োজন করা যাবে না। একই সঙ্গে ব্যানার, ফেস্টুন বা অন্যান্য প্রচারসামগ্রী প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

এ নোটিশ প্রকাশের পরপরই জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা এটিকে শহীদ জিয়ার স্মরণসভা বানচালের অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকারিয়া জাকির বলেন, “প্রতি বছর আমরা যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালন করে আসছি। কিন্তু এ বছর কর্মসূচির প্রাক্কালে হঠাৎ করে অনুমতির শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, আমাদের কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত।”

ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আ. গাফফার বলেন, “বার ভবন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়, এটি সকল আইনজীবীর মিলনকেন্দ্র। এখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মরণসভা আয়োজন করতে গিয়ে যদি অযৌক্তিক অনুমতির বেড়াজালে আটকে যেতে হয়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক চর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী। আমরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”

এদিকে নোটিশ জারির কারণ এবং এর সঙ্গে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে আদালত সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালত প্রাঙ্গণের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে অতীতেও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বা স্মরণসভামূলক কর্মসূচির ঠিক আগে এ ধরনের নোটিশ জারির নজির খুব একটা দেখা যায়নি।

আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছেন, আসন্ন বার নির্বাচনকে ঘিরে আদালতপাড়ায় চলমান রাজনৈতিক ও পেশাজীবী বিভক্তির প্রতিফলন ঘটেছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ফলে আদালত অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও বিভাজন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঘোষণা দিয়েছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মরণে তাদের নির্ধারিত কর্মসূচি যথাসময়ে ও যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হবে। কোনো ধরনের বাধা বা প্রতিবন্ধকতার কাছে তারা নতি স্বীকার করবে না বলেও জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

Related Articles

Back to top button