তাজা খবরমহানগররাজনীতিশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের মিছিল ও সমাবেশ

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
মহান শিক্ষা দিবস উপলক্ষে শিক্ষা বাণিজ্য ও সংকোচন বন্ধ এবং স্বৈরতন্ত্র ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াকু ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে শনিবার সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ছাত্র সমাবেশ ও শহরে লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মুন্নি সরদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র কেন্দ্রীয় কমিটির সংগ্রামী সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, জেলার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ রাতুল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক নাছিমা সরদার প্রমূখ ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৬২ সালে ১৭ সেপ্টেম্বর আইয়ুব শাহীর শিক্ষা সচিব এস এম শরিফের শিক্ষা কমিশন তথা পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষার সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দিয়েছিলো মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লা, সুন্দর আলীসহ নাম না জানা আরো অনেকে। সেই থেকে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ এই দিনটাকে শিক্ষা দিবস হিসেবে শ্রদ্ধার সাথে পালন করে আসছে এবং তারই সাথে শিক্ষা দিবসের ৬০ বছর পূর্তি হবে। কিন্তু স্বাধীনদেশের শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষাসংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি একই থেকে যায়। স্বাধীনদেশের শিক্ষানীতি পর্যালোচনা করলে এ চিত্র দেখা যাবে। ১৯৭২ সালে কুদরত-ই খুদার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষানীতি প্রণীত হয়। শিক্ষানীতির শুরুতে কিছু ভালো কথা থাকলেও শিক্ষা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি একই থেকে যায়। সেখানেও শিক্ষা সর্ম্পকিত বক্তব্য ছিলো শিল্পে মূলধন বিনিয়োগকে আমরা যে নজরে দেখি অনেকটা সেই নজরে শিক্ষা বাবদ অর্থ ব্যয়কে দেখার যৌক্তিকতা প্রতীয়মান হয়। অর্থাৎ শিক্ষাকে ক্রমাগত ব্যয়বহুল ও সংকুচিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এই শিক্ষানীতি তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষা সংকোচনের এই দৃষ্টিভঙ্গিতেই শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হয়, যার ধারাবহিকতা এখনও বিদ্যমান। এর সাথে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে শিক্ষা বাণিজ্যের নতুন নতুন নমুনা। বর্তমানে দেশের মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৫ ভাগই বেসরকারী। শিক্ষার মর্মবস্তুকে ধ্বংস করে করা হচ্ছে সাম্প্রদায়িকীকরণ। প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী ও ৫০ লাখ শিক্ষক। এর প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনই আজ বির্পযস্ত ও অনিশ্চিত। আজকে এই অনিশ্চিত জীবন থেকে রক্ষা পেতে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নিচ্ছে শির্ক্ষাথীরা। শিক্ষা উপকরণের দাম এবং খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে ব্যাপক শিক্ষার্থী ঝড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে, বেড়েছে বাল্যবিয়েও। বিআইডিজি এর এক গবেষনায় এসেছে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রচন্ড মানসিকচাপের মধ্য দিয়ে দিনযাপন করছে। অন্যদিকে শিক্ষাকে পণ্যে পরিনত করেছে, টাকা যার শিক্ষা তার এই নীতিতে চলছে শিক্ষাব্যবস্থা। এই নীতিতে যদি চলতে থাকে তাহলে অসংখ্য শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন থেকে ঝড়ে পড়বে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষা বাণিজ্য ও সংকোচন বন্ধ করতে হবে। শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার সাম্প্রদায়িকীকরণ ও বেসরকারীকরণ বন্ধ করতে হবে। নারায়ণগঞ্জ হলো বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সবচেয়ে ধনী জেল্ াঅথচ এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য দেহ মনে বিকশিত হওয়ার জন্য শিক্ষা নিয়ে কোন ধরনের আয়োজন নেই। এখানে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু এখানে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়নি। নেতৃবৃন্দ নারায়ণগঞ্জে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান।

Related Articles

Back to top button