সরকার পরিবর্তন নয় দেশকে ধ্বংস করার খেলা হচ্ছে – শামীম ওসমান
খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, লাঠিয়াল চাই না, হুমকি-ধমকি চাই না। আমি একলাই একটা বাহিনী। এখনও একটা ডাক দিলে দুই-চাইর লাখ লোক জড়ো হইয়া যাইবো। এই ক্ষমতা আমার আছে। আপনারা খেলতে চান ? ডেট দেন কবে খেলবেন। খেলা হবে ইনশাল্লাহ। আপনারা ধ্বংসের পক্ষে আর আমরা ধ্বংসের বিপক্ষে খেলবো।
শনিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে শহরের ২নং রেলগেইটে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরাতো সাধারণ কর্মী, জনগণ তো ভালোবাসে আমারে। এই অপরাধের শাস্তি দিলে দেন, শাস্তি মাথা পেতে নেবো। আর যারা দুইদিকে খেলেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এতক্ষন বহু কষ্টে অনেক ভালো ভালো কথা বলছি। যখন ছেলেরা সব জয় বাংলা বলে স্লোগান দেয় তখন একষট্টি বছরের শামীমের বয়স ষোলো বছর হয়ে যায়। বাই চান্স যদি আমার বয়স ষোলো বছর ভাইবা বসি, তাইলে আপনাদের কেউ কিন্তু পালাইয়া বাঁচবেন না।
তিনি বলেন, ওরা বাংলার মাটিতে স্লোগান দেয়, পঁচাত্তরে হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার। ওরা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের মতো শেখ হাসিনাকেও হত্যা করতে চায়। সরকার পরিবর্তন না দেশকে ধ্বংস করার খেলা হচ্ছে। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া হলে আপনাদের তো খুশি হওয়ার কথা না। দায়িত্বশীল বিরোধী দল হলে, পরামর্শ থাকলে পরামর্শ দেন।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সময় ছেলে তারেক রহমানসহ পরিবারের কেউ পাশে ছিলেন না বলে সমালোচনা করে তিনি বলেন, পদ-পদবীর লোভে রাজনীতি করি না। আমরা ক্ষুধার জ্বালায়ও দেখেছি, টাকার পাহাড়ও দেখেছি। তোলারাম কলেজের ভিপি থাকাবস্থায় নয়শ’ টাকা দিয়ে ফরম ফিল-আপ করিয়েছিলেন আমার শিক্ষক। ঢাকার রাজপথ দখল করবেন বলেন। আমরা কী হাতে চুরি আর কানে দুল পইরা আছি ? আপনাদের জন্য ঢাকায় গিয়ে খেলতে আমাদের নারায়ণগঞ্জের মহিলারাই যথেষ্ট। দেশটাকে ধ্বংস করতে পারবেন না। হয়তো কিছু শামীম মরবে, কিছু বাদল মরবে, চন্দনের মতো কিছু মানুষ দুই পা হারাবে, কিছু সাংবাদিক, পুলিশ, কর্মী মরবে। ঝড় আসলে কিছু ডালপালা ভাঙবে। কিন্তু শয়তান কখনও আল্লাহর সাথে পারে না। শেখ হাসিনার উপর আল্লাহর রহমত আছে।
সাংসদ বলেন, রাজনীতি বুঝি আমি। রাজনীতি বুঝেই করি। দুই আর দুইয়ে সবাই চার দেখে আর আমরা বাইশ দেখি। বাইশ দেখি বলেই বলছি, যাই করেন, যার হাতে-পায়েই ধরেন না কেন ২০২৪ সালে শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।
শামীম ওসমান বলেন, বিএনপি নেতা মামুন মাহমুদকে ঢাকার পল্টনে কস্তুরি হোটেলের সামনে ছুরি মারে। ছুরি যে মারে তাকে জনতা ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। সেই খুনি স্বীকারোক্তি দিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের একজন সাবেক এমপির ছেলে টাকা দিয়েছিল মামুনকে মারার জন্য। আল্লাহর রহমতে সে বেঁচে গেছেন। মারা গেলে ত্বকী হত্যার মতো আরেকটা নাটক সাজাতো। সবাই বলতো, মামুন মাহমুদকে শামীম ওসমানের লোকজনরা মেরে ফেলছে। তাই ত্বকী হত্যার বিচারের মতো সকল ঘটনার বিচার চাই।
মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দন শীলের সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোঃ শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালা, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডাঃ আবু জাফর চৌধুরী বিরু, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিরিন বেগম, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসরাত জাহান স্মৃতি, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জিএম আরমান প্রমুখ।


