তাজা খবরথানার সংবাদফতুল্লা থানাশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর উপলক্ষে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর উপলক্ষে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে  বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার শিবু মার্কেট এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক রোহান। বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, গাবতলি পুলিশ লাইন শিল্পাঞ্চল শাখার সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, তল্লা আঞ্চলিক শাখার সংগঠক কামাল হোসেন, ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সহ-সভাপতি মাসুদ রানা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা, যেখানে ১১৩২ জন শ্রমিক নিহত এবং প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক আহত হন। এত বড় হত্যাযজ্ঞের পরও আজ পর্যন্ত দায়ী মালিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয়নি এবং অনেক ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবার ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
তারা আরও বলেন, রানা প্লাজার পর কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন কারখানা, গুদাম ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনায় হাজার হাজার শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছেন। কিন্তু এসব ঘটনার যথাযথ বিচার এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত হয়নি।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, মালিকদের অবহেলা ও রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতার কারণে শ্রমিকদের জীবন এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শ্রমিকদের শ্রম যেমন সস্তা হিসেবে বিবেচিত হয়, তেমনি তাদের জীবনও অবমূল্যায়িত হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
মানববন্ধন থেকে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করা হয়:
রানা প্লাজাসহ সকল শিল্প দুর্ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মক্ষেত্রে নিহত শ্রমিকদের জন্য আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
শ্রমিকদের জন্য জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।
দুর্ঘটনায় আহত ও পঙ্গু শ্রমিকদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
সকল কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা আগামী ২৪ এপ্রিলকে গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস হিসেবে যথাযথ মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানান এবং শ্রমিকদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Related Articles

Back to top button