জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বাসদের আলোচনাসভা ও মিছিল অনুষ্ঠিত
Jahid
প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৭, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ন /
০
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বাসদের আলোচনাসভা ও মিছিল অনুষ্ঠিত।
মুক্তিযুদ্ধের সাম্য চেতনা ও ’২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে ব্যবস্হা বদলের জন্য আরেকটি গণ অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বজলুর রশিদ ফিরোজ।
জুলাইয়ের চেতনা-দেশ বিক্রি হবে না’ স্লোগানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, বন্দর ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা বন্ধ, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারসহ জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
আজ ৭ আগস্ট বিকাল ৪:৩০ টায় জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে মার্কিনের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্যচুক্তি বাতিল, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যহারসহ বিভিন্ন দাবিতে বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ চুনকা পাঠাগারের সামনে জনায়েত হয়ে একটি লাল পতাকা মিছিল শহরে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাঠাগারের সামনে এসে শেষ হয়। পরে চুনকা মিলতায়নে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ও বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক নিখিল দাস। প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ।আরও বক্তব্য রাখেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকীর মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, জেলা কমিটির সদস্য ও নাসিকের ১৫ নং ওয়ার্ডের ৩ বারের সাবেক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, বাংলাদেশ জাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সোলেমান দেওয়ান, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সেলিম মাহমুদ।
বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন , বাংলাদেশের জনগণ বারবার একটি শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ পাওয়ার জন্য রাজপথে অভ্যুত্থানের জন্ম দিয়েছে। ৫২, ৬২, ৬৯-এর ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এই দেশ স্বাধীনতা পেয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার শ্রমিক-কৃষকের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী অভ্যুত্থানে সরকার পতন হয়েছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে সরকারি হিসাবে ৮৩৪ জন শহিদের রক্তের বিনিময়ে ১৭ বছরের স্বৈরাচারী সরকারর প্রধান শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ হন ও হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের এই আপাত বিজয় বাংলাদেশকে সমাজ বদলের লক্ষ্যে আশান্বিত করে তুলেছিল। কিন্তু আজ দুই বছর পরে দেশের গতিমুখ আর জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ বিপরীতে অবস্থান করছে।
বক্তারা বলেন , অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষ হবার ও জাতীয় নির্বাচনের ৩ দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে এক দাসত্বের বাণিজ্য চুক্তি করে গিয়েছে যা বর্তমান সরকারও বহাল রেখেছে। এই চুক্তি দেশের শিল্প, কৃষি, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ধ্বংস ও জাতীয় নিরাপত্তা-সার্বভৌমত্ব হুমকিতে ফেলবে। একদিকে সরকার দেশের গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে, আরেকদিকে বাজারদরের চেয়ে ৫০% বেশি দামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এল এন জি আমদানির আত্মঘাতী পথে হাঁটছে। আবার দেশের ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে সরকার বেসরকারি খাতে নাম মাত্র দামে বিক্রি করে দিচ্ছে। চট্টগ্রামের নিউমুরিং টার্মিনাল দিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ৪৪% নিয়ন্ত্রিত হয়।এই বন্দর টার্মিনাল প্রথমে শেখ হাসিনা ও পরবর্তিতে ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইজারা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বামপন্থীদের এবং শ্রমিক-প্রগতিশীল ব্যক্তি বর্গের প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে। অথচ বর্তমান সরকারও এই বন্দর টার্মিনাল ইজারা দিতে চাইছে। জুলাইয়ে কর্মসংস্থানের, বৈষম্য নিরসনের দাবিতে ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছিল, পরে তাদের সাথে শ্রমজীবী মানুষসহ সর্বস্তরের জনতা যুক্ত হয়। আর বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দেশীয় শিল্প-কর্মসংস্থান ধ্বংস করার চুক্তি বাস্তবায়ন করছে। নেতৃবৃন্দ একইসাথে ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ৭১-এর পরাজিত শক্তি জুলাইকে পুঁজি করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন না হওয়াতেই জুলাই অভ্যুত্থানের জন্ম হয়েছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত শিবির চক্র যুদ্ধাপরাধীদের ছবি টানানো এবং ক্যাম্পাসগুলিতে সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাঁয়তারার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেন, গণ অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশ্রয়ে উগ্র ধর্মবাদী গোষ্ঠী আস্ফালন দেশবাসীকে হতবাক করেছে। বক্তাগণ স্বাধীনতা বিরোধী উগ্র ধর্মান্ধ শক্তির দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপতৎপরতা প্রতিহত করার জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান।
বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের চেতনা – দেশ বিক্রি করা হতে পারেনা। আবু সাইদ-মুগ্ধের মত শহিদেরা একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য জীবন দিয়েছে। বাসদসহ বামপন্থীদের নেতৃত্বে সেই বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লড়াই শক্তিশালী না হলে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই আগামী দিনে বাসদসহ বামপন্থার শক্তিকে শক্তিশালী করে শুধু সরকার বদল নয়, ব্যবস্থা বদলের জন্য শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে আরেকটি গণঅভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নেতৃবৃন্দ শ্রমিক কৃষক মেহনতি মধ্যবিত্ত জনগণের প্রতি আহবান জানান।
আপনার মতামত লিখুন :