পরীক্ষা অসুস্থ প্রতিযোগিতা নয়, মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র: ডিসি জাহিদ

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম: পরীক্ষা শুধু নম্বর পাওয়ার লড়াই নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান, সততা ও মেধা প্রকাশের ক্ষেত্র। তাই পরীক্ষাকে কোনোভাবেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় পরিণত করা উচিত নয়। শিক্ষার্থীরা যেন অসদুপায়ের চিন্তা না করে নিজেদের যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে উত্তরপত্রে লিখতে শেখে—এমন পরীক্ষা-সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম
মিঞা।
বৃহস্পতিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাবলিক পরীক্ষা। এবার চট্টগ্রামে ১০৪টি কেন্দ্রে প্রায় ৭৯ হাজার ২১২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের আগামী প্রজন্মের কাছে পরীক্ষা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে। পরীক্ষার হলে কোনো অসুস্থ চিন্তা বা অসদুপায়ের স্থান নেই। একজন শিক্ষার্থী যা জানে, সেটিই যেন সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার উত্তরপত্রে লিখে আসে।”
পরীক্ষা প্রতিযোগিতার অংশ হলেও সেই প্রতিযোগিতা অবশ্যই সুস্থ ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি পাঠ্যবিষয় সত্যিকার অর্থে আয়ত্ত করতে পারে, তাহলে পরীক্ষার খাতায় তার স্বাভাবিক প্রতিফলন ঘটবে। একই সঙ্গে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত মেধাবীরাই প্রাপ্য স্বীকৃতি পাবে।
ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা একটি মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। আজ যারা পরীক্ষার হলে বসেছে, তারাই আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তাই তাদের শুধু ভালো ফল করলেই হবে না, সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধও ধারণ করতে হবে।”
প্রশ্নফাঁস নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সরকার পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে পরীক্ষা নিয়ে সংশয় বা প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করো। ছাত্রজীবনে যা শিখছ, সেটিই ভবিষ্যৎ জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতো। কোনো কোনো বোর্ডের শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় কম নম্বর পাওয়ার অভিযোগ করত। এ ধরনের বিতর্ক ও বৈষম্যের ধারণা দূর করতেই এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়ে না ফেলে, সে বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষা কার্যক্রমে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।
চট্টগ্রাম কলেজের কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কেন্দ্রে নিবন্ধিত ৩ হাজার ২০২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ১৬৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অনুপস্থিত ছিল ৩৫ জন। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
