তাজা খবরথানার সংবাদফতুল্লা থানাশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ
কৃষি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০% নিশ্চিতের দাবিতে স্মারকলিপি পেশ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
১৭ মে রবিবার সকাল ১১টায় এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
সংগঠনের জেলা সংগঠক এস এম কাদির ও সাইফুল ইসলাম শরীফের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার বিজ্ঞ অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট কাফি বিন কবির।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৪ শতাংশ কৃষির সাথে যুক্ত এবং জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু বাস্তবে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য খাত মিলিয়ে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ মাত্র ৫ শতাংশ, আর কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ মাত্র ৩.২১ শতাংশ। কৃষকদের শ্রম ও উৎপাদনের ওপর দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নির্ভরশীল হলেও কৃষক আজ চরম অবহেলা ও সংকটের মুখোমুখি।
তারা বলেন, কৃষি উপকরণের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, নিম্নমানের বীজ ও ভেজাল সার-কীটনাশক, সরকারি ক্রয়কেন্দ্র ও হিমাগারের অভাব, মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, এনজিও ও মহাজনি ঋণের চাপ, ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং খেতমজুরদের কর্মসংকট—সব মিলিয়ে কৃষক ও গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে সংগঠনটি আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এ কৃষি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ শতাংশ নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ শতাংশ নিশ্চিত করা।
২. বিএডিসির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা।
৩. ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সুদমুক্ত ঋণ প্রদান ও কৃষি ঋণ মওকুফ করা।
৪. প্রতি ইউনিয়নে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে উৎপাদন খরচের সাথে ৪০ শতাংশ মুনাফা যুক্ত করে কৃষিপণ্য ক্রয় করা।
৫. সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত হিমাগার, সাইলো ও সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা।
৬. খেতমজুরদের সারা বছরের কাজ, রেশন ব্যবস্থা ও কৃষিকার্ড নিশ্চিত করা।
৭. ভূমিহীনদের খাসজমি প্রদান এবং আদিবাসীদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা।
৮. জাতীয় স্বার্থবিরোধী অসম চুক্তি বাতিল করা।
৯. অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
১০. হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কৃষকের ন্যায্য অধিকার, খাদ্য নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় কৃষি ও কৃষকের পক্ষে কার্যকর রাষ্ট্রীয় নীতি এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা এখন সময়ের জরুরি দাবি।



