মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
মাদক ব্যবসায়ীদের অত্যাচার ও হুমকী হতে এলাকাবাসীকে উদ্ধারকরণ ও অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী।
রবিবার (১৭ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরের ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন জীমখানাবাসী।
এর পূর্বে জিমখানা থেকে একটি মিছিল বের হয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
এসময় জিমখানা এলাকাবাসীর পক্ষে ফারুক আহমেদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন জিমখানা এলাকায় বিগত ১৫/২০ বছর যাবৎ একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠি মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আলো বেগম, শাহআলম, শাহাদাত, তানভির, আলম, উৎস এদের নির্দেশেই জিমখানা এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা হয়। এতদিন এলাকাবাসী তাদের ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেনি।
তিনি বলেন, জিমখানা এলাকায় তাদের একটি টর্চার সেল রয়েছে, টর্চার সেলটি শাহআলমের ক্লাব নামে পরিচিত। তাদের অনেক বড় একটি সন্ত্রাসী চক্র আছে। কিছুদিন আগে এলাকাবাসী তাদের সবাইকে জিমখানা থেকে উচ্ছেদ করে এবং এলাকায় একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাজেদুর রহমানসহ আরও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। কিন্তু এই মাদক ব্যবসায়ীদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এলাকাবাসী ভয় এবং আতংকের মধ্যে রাত্রি যাপন করছে। তারা প্রতিনিয়ত দিনে কয়েকবার তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। তারা সুযোগ বুঝে এলাকাবাসীর উপর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে।
ফারুক আরও বলেন, শাহআলম এবং তানভির দুই জনের নামেই নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। আলো বেগম এবং তার ভাই শাহাদাত প্রকাশ্যে এলাকাবাসীকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। জিমখানা সিটি পার্ক, করিম মার্কেট, মন্ডল পাড়া, জল্লারপাড়া, নিতাইগঞ্জ, নিমতলা এলাকাগুলোতে শাহআলম ও তানভিরের ছিনতাই গ্রুপ প্রতিদিন মানুষকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাদের সবকিছু কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে। শাহআলম এবং তানভির সম্পর্কে আপন মামা-ভাগিনা। এদের অনেকের নামে চট্টগ্রাম জেলা আদালতেও মাদক মামলা রয়েছে। এরা নারায়ণগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ী নামে সুপরিচিত। এলাকাবাসী এই ভাল কাজের উদ্যোগ নেয়ার পরেও নারায়ণগঞ্জ সদর থানার প্রশাসন থেকে কোন ধরণের সহযোগিতা পাচ্ছে না। বারবার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্মরণাপন্ন হলেও তিনি কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এলাকাবাসী তাদের পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে গভীর দুঃচিন্তার মধ্যে দিন যাপন করছেন। তাই মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাকারী ও সন্ত্রাসীদের দমনে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এসময় জিমখানা এলাকার কয়েক শতাধিক বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

