শীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দসিদ্ধিরগঞ্জ থানা

বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু লাশ আটকে রাখলো কর্তৃপক্ষ 

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম: নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় দুই নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ করেছে রোগীর স্বজনরা। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার নামে ২ লাখ টাকা নেওয়ার পরও শিশুদের বাঁচানো যায়নি। এমনকি মৃত্যুর পর অতিরিক্ত ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ না করলে লাশ হস্তান্তর করা হবে না বলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাপ দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়।

এর তিন দিন আগে আরো একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহত নবজাতকের মা সুলতানা।

নবজাতকের স্বজনদের বাড়ি ফেনী জেলায়। ঘটনার পর হাসপাতালের সামনে স্বজনদের আহাজারি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত নবজাতকের মা সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার সন্তান আইসিইউতে ছিল। আমাকে না জানিয়েই তাকে আইসিইউ থেকে বের করে ফেলা হয়। এর আগে আমার মাত্র ১২ দিনের শিশুকে চারটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। ইনজেকশন দেওয়ার পর তার শরীর কালো হয়ে যায় এবং পেট ফুলে যায়।

এরপর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে আমাকে জানানো হয় আমার সন্তান মারা গেছে।

নিহত শিশুটির চাচা ইউসুফ বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ নিয়েছে হাসপাতাল। সব ওষুধ তাদের কাছ থেকেই কিনতে হয়েছে। বাইরে থেকে ওষুধ আনলে তারা গ্রহণ করতো না।

এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করেছি। তারপরও ভুল চিকিৎসার কারণে বাচ্চাটি মারা গেছে। এখন আরো ৪০ হাজার টাকা দাবি করে লাশ আটকে রেখেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ‘শিশুদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধের অজুহাতে মরদেহ আটকে রাখে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের প্রধান কনসালটেন্ট ডা. মজিবুর রহমান বলেন, ‘দুইটি শিশুকেই সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রথম শিশুটির মাথায় ছোট টিউমার ছিল, সে দ্রুত মারা যায়। দ্বিতীয় শিশুটির অবস্থাও খুব খারাপ ছিল। আমরা আগেই স্বজনদের জানিয়েছিলাম শিশুটির বাঁচার সম্ভাবনা কম।

তিনি আরো বলেন, ‘রোগীর স্বজনের অনুমতি ছাড়া আইসিইউ থেকে বের করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বলেছিলাম, আইসিইউ থেকে বের করলে শিশুটি বাঁচবে না। সব হাসপাতালেই নিয়ম হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে লাশ নিয়ে যাবে, এখানেও আমরা তাই বলেছি।

Related Articles

Back to top button