তাজা খবরশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দসাহিত্য ও সংস্কৃতি
রক্তার্জিত মহান বিজয় দিবস
মোখলেসুর রহমান তোতাঃ
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বাঙ্গালীর শ্রেষ্ঠতম অর্জন।আনন্দ-উৎসব ও বিজয়ের দিন। দীর্ঘ রক্তাক্ত সংগ্রাম, আত্নদান ও নিপীড়ন, নির্যাতন অতিক্রম করে বাঙ্গালী জাতি বহু কাঙ্খিত স্বাধীনতা অর্জন করেছিল আজ থেকে বায়ান্ন বছর আগে ১৯৭১ সালের আজকের দিনটিতে। বিজয়ের আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠেছিল প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। জাতীয় ইতিহাসের এ এক গৌরবদীপ্ত দিন। নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের চুড়ান্ত বিজয়ের দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে আত্নদান সমর্পন করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যূদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। বিজয়ের আনন্দে বাঙ্গালীর অন্তরে উচ্চারিত হয় ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’। তাই আমাদের গৌরব, অর্জন আর অহংবোধের উজ্জলতায় উৎকীর্ণ এই অনন্য মাহান বিজয় দিবস। ৩০ লাখ শহীদ বাঙ্গালীর বুকের তাজা রক্তে, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম ও কোটি কোটি মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয় মুকুটে সৌরভসিক্ত বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামের ভুখন্ড। লাল সবুজের পতাকায় দেদীপ্যমান হয়ে উঠে তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের সূচনা।
সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ বিজয় দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবার ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। আজ সরকারি ছুটির দিন। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জেও ব্যাপক কর্মসূূচী গ্রহন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চাষাড়াস্থ বিজয়স্তম্ভে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের শুভসূচনা করা হবে। রাত ১২.০১ মিনিটে বিজয় স্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পন করা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৮.৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ ওসমানী স্টেডিয়ামে সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে। দুপুরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীরমুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। বাদ যোহর জেলার সকল মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডায় ও অন্যান্য উপসানালয়ে দেশ ও জাতির কল্যান কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি দুপুরে বিভিন্ন হাসপাতাল, জেলখানা, এতিমখানা, শিশু সদন ও সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। পাশাপাশি দিবসটিকে সামনে রেখে জেলা প্রশাষন আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। এছাড়াও মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলার শহর ও শহরতলীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পৃথক পৃথক ভাবে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করার উদ্যোগ গ্রহন করেছে।
যাদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ও আমরা পেয়েছি লাল সবুজের বিজয় নিশান একাত্তরের রণাঙ্গনের সেইসব শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
