মানববন্ধনে জেলা প্রশাসকের উদ্দেশ্যে মেয়র আইভী পাকিস্তানী কায়দায় আপনি আমাদের আঘাত করেছেন
খবর নারায়ণগঞ্জ.কম: নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরি স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘নারায়ণগঞ্জ কালেক্টরেট প্রিপারেটরি স্কুল’ করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্কুলের সাবেক ছাত্র-ছাত্রী ও নগরের বিশিষ্ট জনেরা। স্কুলের আগের নাম ফিরিয়ে দেয়ার দাবী জানিয়ে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, আমাদের না জানিয়ে স্কুলের নামের সাথে কালেক্টরেট শব্দ যুক্ত করে আমাদের অসম্মানিত করা হয়েছে, একটি ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আমাদের অন্তরকে, আমাদের শৈশবকে, আমাদের ইতিহাসকে, আমাদের ঐতিহ্যকে আঘাত করেছেন। পাকিস্তানী কায়দায় আপনি আমাদের আঘাত করেছেন। পাকিস্তানীরা রাতের আঁধারে আমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়েছিলো। আপনি রাতের আঁধারে, গোপনে স্কুলের নাম পরিবর্তন করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটায় নগরীর চাষাড়াস্থ নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরি স্কুলের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মেয়র আইভীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্কুলের সাবেক ছাত্রী ডঃ সাদিয়া আফরোজ মুক্তি, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসি’র সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর অসিত বরন বিশ্বাস, মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, শওকত হাশেম শকু, স্কুলের সাবেক ছাত্র ব্যবসায়ী আরাফাত আহমেদ রাজিব প্রমুখ। স্কুলের কয়েকশত সাবেক ছাত্র-ছাত্রী ও নগরবাসির উপস্থিতিতে মানববন্ধন কার্যত সমাবেশে রুপ নেয়। স্কুলের বেশ কয়েকজন সাবেক শিক্ষিকাও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে মেয়র আরো বলেন, যেখানে নারায়ণগঞ্জের কোথাও কালেক্টরেট শব্দটি ব্যবহৃত হচ্ছেনা। সেখানে কেন জেলা প্রশাসক স্কুলের নামের সাথে কালেক্টরেট শব্দটি জুড়ে দিচ্ছেন না বুঝতে পারছিনা। এছাড়া স্কুলের একটি ভবনের নামকরন সাবেক জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার নামে করা হয়েছে। এ ভবন জেলা প্রশাসকের টাকায় করা হয়নি। স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা আয়শা জালাল তিল তিল করে এ টাকা জমিয়ে ছিলেন। সেই টাকায় স্কুলের নতুন ভবন হয়েছে। তাহলে স্কুলে ভবনের নাম ডিসি রাব্বি মিয়া ভবন হবে কেন ? শিক্ষিকা আয়শা জালালের হাত ধরে আমরা নারায়ণগঞ্জের হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী বড় হয়েছি। আমরা আজ বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত। আমরা শ্রদ্ধেয় সে শিক্ষিকার নামে স্কুল ভবনের নামকরনের দাবী জানাচ্ছি। স্কুলের জায়গাটির ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি যার অবদান তিনি ক্যাপ্টেন রহমান। ওনার নামে একটি অডিটোরিয়াম হবে। এবং স্কুলের প্রথম ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এইচ টি ইমাম। তার একটি প্রতিকৃতি আমরা স্কুলে স্থাপন করবো। তিনি বলেন, আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে দাবী জানাবো তিনি যেন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করেন। তিনি যদি না শুনেন তাহলে আমরা আমাদের পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষনা করবো।
গত ১৬ মার্চ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভায় স্কুলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। পদাধিকার বলে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ।