ফতুল্লায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা ছিনতাই, আদালতে মামলা


Jahid প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৩, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ন / ০ Views
ফতুল্লায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা ছিনতাই, আদালতে মামলা
ফতুল্লা প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় রাস্তা থেকে অটোরিকশার গতি রোধ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মারধর, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে ফতুল্লা থানায় মামলা নিতে গড়িমসির পর অবশেষে বিজ্ঞ আদালতে সি.আর. মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোসাঃ পারভীন আক্তার (৫৪) নামের এক নারী বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী ফতুল্লা আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন।
​মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—  মোঃ ইমন (৩২), পিতা- মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, সাং- বিসিক ১নং গলি, বাড়ি নং- ৩৮/৪১; মোঃ নূর আলম রানা (৪০), পিতা- গোলাম মোস্তফা, সাং- কাশী বাজার, পোঃ- কুতুবপুর, থানা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়ণগঞ্জ; মোঃ ইমরান (৫০), পিতা- মৃত আঃ বাছেদ, সাং- মুন্সীবাগ, পোঃ- কুতুবপুর, থানা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়ণগঞ্জ; মোঃ শাকিল (৩০), পিতা- মিন্টু, সাং- মুন্সীবাগ, পোঃ- কুতুবপুর, থানা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়ণগঞ্জসহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ রোজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাদী স্বর্ণালঙ্কারে সজ্জিত হয়ে স-পরিবারে বিনায়েলের দাওয়াতে অংশ নিতে নিজ বাড়ি থেকে কাশীপুর ইউনিয়নের ফকরির বাড়ি মোড়ে যান। দাওয়াওয়াত শেষে অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরার পথে আসামিরা বাদীনির অটোরিকশার গতি রোধ করে জোরপূর্বক একটি মোটর গ্যারেজের ভেতরে নিয়ে যায়।
​সেখানে আসামিরা বাদীনির ভাই ও ভাইয়ের পুত্রকে কলার ধরে দ্বিতীয় তলার টর্চা সেলে নিয়ে যায় এবং ১ ও ৩ নং আসামির নেতৃত্বে বাদীনির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাদীনির গলায় থাকা ৪ ভরি ওজনের স্বর্ণের হার, হাতের রুলি, কানের দুল ও আংটি (যার মূল্য প্রায় ৯,০০,০০০ টাকা) জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
​এছাড়া আসামিরা বাদীনির ভাই ও স্বজনদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে এবং নগদ জোরপূর্বক বিভিন্ন অংকে টাকা আদায় করে। ২ নং আসামি অসৎ উদ্দেশ্যে বাদীনির শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং ৪ নং আসামির নিকট থাকা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে এই বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে বা আইনগত ব্যবস্থা নিলে জীবননাশের হুমকি দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
​স্থানীয়ভাবে আলাপ-আলোচনা করে মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হলেও স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় এবং থানায় মামলা গ্রহণ না করায় পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন বাদী। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।