তাজা খবরথানার সংবাদফতুল্লা থানাশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

শান্তিনগরে ২টি দোকানে সালু বাহিনীর হামলা ভাংচুর লুটপাট থানায় অভিযোগ

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম: আবারো কাশিপুরের শান্তিনগর এলাকাবাসীর কপালে অশান্তির বাজ। একের পর এক ডাকাতি, হত্যা, ভাংচুর, লুটপাট সহ চলছে নানা অপকর্ম। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কাশিপুর ইউনিয়নের ভোলাইল শান্তিনগর এলাকাবাসী। গত শুক্রবার রাত ১১ টায় পশ্চিম ভোলাইল শান্তিনগর এলাকায় ইট বালু ও এলপি গ্যাসের দোকান সোহেল রানা এন্টারপ্রাইজ এবং পাশে থাকা ব্রয়লার মুরগির দোকান ভাংচুর ও নগদ টাকা সহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হত্যা ও ডাকাতি মামলা সহ প্রায় ২৮টি মামলার কুখ্যাত আসামী সালু (৩৫), তার ছোট ভাই তামিম (২০), ছালুর মা নাজমা আক্তার (৫০)।

রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এমন অভিযোগ তুলেন ভুক্তভোগী সাদ্দাম হোসেন। ঘটনার পর পর ফতুল্লা থানায় একটি অভিযোগ করা হয় বলেও জানান তিনি।

সাদ্দাম হোসেন জানান, আমি সহ ৬/৭ জন যৌথ ভাবে ভোলাইল শান্তিনগর এলাকায় ইট, বালুর ব্যবসা করতেছি। সালু, তামিম, তার মা নাজমা আক্তার সহ অজ্ঞাত ১০/১২ মিলে শুক্রবার রাত অনুমানিক ১১টার দিকে আমাদের দোকানের হামলা চালায় ও লুট পাট করে। সালু ও তার ভাই তামিম এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও খারাপ প্রকৃতির লোক এবং একাধিক মামলার আসামী। আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আমার ব্যবসায়ীক পার্টদনার দ্বীন ইসলাম (২৫) ও মোঃ মোজাম্মেল (২৩) দোকানে অবস্থানকালীন সময়ে সালু, তামিম তার মা সহ ১০/১২জন যাদের প্রত্যেকে হাতে ধারালো চাপাতি, ছোরা, চাকু, লোহার রড দেশীয় এস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া বে-আইনী জনতাবদ্ধে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে অনাধিকার প্রবেশ পূর্বক আমাদের ব্যবসার পার্টদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি সহ তাহাদেরকে ব্যবসা ছাইরা যাইতে বলে। তখন আমার ব্যবসায়ীক পার্টনার দ্বীন ইসলাম (২৫) তাদের দোকান থেকে বের হইতে বললে তারা ও দ্বীন ইসলাম ও মোজাম্মেলকে এলোপাতাড়ী ভাবে মারপিট শুরু করে। চাপাতি দিয়ে ও কোপ দেয়। এক পর্যায়ে আমাদের দোকানের ভিতরে থাকা ১৫-২০টি সিমেন্টের বস্তা কোপানো হয়। চেয়ার টিবেল ভাংচুর করে।দোকানের ক্যাশের ড্রয়ারে সিমেন্টে নগদ-৬২,৫০০ টাকা সহ থাকা ঠেলা গাড়ির মধ্যে ৫০ থেকে ৬০টি সিমেন্টের বস্তা সহ ঠেলা গাড়ি নিয়া যায় সাথে ৬টি গ্যাস সিলিন্ডার বোতলও লুট করে।

এলাকাবাসীরা জানান, সালু গংদের কারনে আমরা বাসায় থেকে বের হতে পারিনা। পিস্তল, কাচু, রড, সহ এলাকাতে মোহরা দেয়। যেই কিছু বলতে যায় তাকেই মারপিট করা হয়। আমরা এলাকাবাসী আতঙ্কে থাকি সব সময় আমরা চাই এতো বড় সন্ত্রাসীকে যাতে পুলিশ ধরে ফাঁসি দেয়। আমরা বাঁচতে চাই আমাদের বাচান।

পাঠকের পড়ার সুবিধার্থে অভিযোগ কপি হুবহু তুলে ধরা হলো: বিনীত নিবেদন এই যে, আমি মোঃ সাদ্দাম হোসেন (৩২), জাতীয় পরিচয় পত্র নং-১৪৯৮৮ ০৪৩৬৬, পিতা-জাহাঙ্গীর আলম, সাং-ভোলাইল শান্তিনগর, থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ থানায় হাজির হইয়া বিবাদী ১। ছালু (৩৫), ২। তামিম (২০), উভয় পিতা-সফর মাঝি, ৩। নাজমা আক্তার (৫০), স্বামী-সফর মাঝি, সর্ব সাং-ভোলাইল শান্তিনগর, থানা-ফতুল্লা, জেলা-নারায়ণগঞ্জ সহ অজ্ঞাত নামা ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করিতেছি যে, আমি সহ ৬/৭ জন যৌথ ভাবে ফতুল্লা থানাধীণ ভোলাইল শান্তিনগর এলাকায় ইটা বালুর ব্যবসা করিয়া আসিতেছি। উল্লেখিত ১ ও ২নং বিবাদীদ্বয় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও খারাপ প্রকৃতির লোক এবং একাধিক মামলার আসামী। উল্লেখিত ১ ও ২নং বিবাদীদ্বয় আওয়ামীলীগ পন্থী এবং বিগত আওয়ামীলীগের আমলে ভোলাইল শান্তিনগর এলাকায় ইটা বালুর ব্যবস করিতো। আওয়ামীলীগ দল চলিয়া যাওয়ার পর আমরা শান্তিপূর্ন ভাবে উক্ত এলাকায় ইটা বালুর ব্যবসা করিয়া আসিতেছি। বিবাদীরা বেশ কয়েক মাস যাবৎ আমাদেরকে এলাকায় ইটা বালুর ব্যবসা করিতে দিবে না মর্মে বিভিন্ন ভাবে আমাদেরকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও জীবন নাশের হুমকি ধামকি প্রদান করা সহ বিভিন্ন সময় আমাদেরকে মারধর করিয়া আসিতেছিল। গত ইং-১২/০৯/২০২৫ তারিখ রাত্র অনুমান-১১.০০ ঘটিকার সময় ফতুল্লা থানাধীন ভোলাইল শান্তিনগর সাকিনস্থ আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আমার ব্যবসায়ীক পাটনার দ্বীন ইসলাম (২৫) ও মোঃ মোজাম্মেল (২৩) দ্বয় প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালীন সময়ে উল্লেখিত বিবাদীগণ সহ অজ্ঞাত নামা ১০/১২ জন প্রত্যেকে হাতে ধারালো চাপাতি, ছোরা, চাকু, লোহার রড দেশীয় এস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া বে-আইনী জনতাবদ্ধে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে অনাধিকার প্রবেশ পূর্বক আমাদের ব্যবসায়ীক পার্টদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ তাহাদেরকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়িয়া চলিয়া যাইতে বলে। তখন আমার ব্যবসায়ীক পার্টনার দ্বীন ইসলাম (২৫) বিবাদীদেরকে প্রতিষ্ঠানের বাহির যাইতে বলিলে ১নং বিবাদীর হুকুমে ও নির্দেশে ২ ও ৩নং বিবাদীদ্বয় সহ অজ্ঞাত নামা বিবাদীরা দ্বীন ইসলাম ও মোজাম্মেল দ্বয়কে এলোপাতাড়ী ভাবে মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে ১নং বিবাদীর হাতে থাকা ধারালে। চাপাতি দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে দ্বীন ইসলাম এর মাথায় কোপ মারিতে গেলে সে বাম হাত দিয়া প্রতিহত কদিলে উক্ত চাপাতির কোপ বাম হাতের কব্জির উপরে লাগিয়া গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম হয়, ২নং বিবাদীর হাতে থাকা ধারালো রাম দা দিয়া দ্বীন ইসলাম এর মাথায় কোপ মারিতে গেলে সে বাম হাত দ্বারা ফিরাইলে তাহার বাম হাতের তালুতে লাগিয়া গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম হয়। তখন আমার অপর ব্যবসায়ীক পার্টনার মোজ্জাম্মেল তাহাকে রক্ষা করিতে আগাইয়া গেলে ৩নং বিবাদী সহ অজ্ঞাত নামা বিবাদীদের হাতে থাকা লোহার রড ও কাঠের ডাসা দ্বারা তাহার মুখে, পিঠে, পেটে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ী পিটাইয়া নীলা ফোলা ও রক্ত জমাট জখম করে। এক পর্যায়ে বিবাদীরা আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে রক্ষিত ১৫/২০টি সিমেন্টের বস্তা কোপাইয়া অনুমান-১০,০০০/- টাকা এবং চেয়ার টিবেল ভাংচুর করিয়া অনুমান-১২/১৩ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। তাহাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিতে থাকিলে ১নং বিবাদী আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্যাশের ড্রয়ারে রক্ষিত নগদ-৬২,৫০০/- টাকা সহ ২নং বিবাদী এবং অজ্ঞাত নামা বিবাদীরা আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে থাকা ঠেলা গাড়ির মধ্যে ৫০/৬০টি সিমেন্টের বস্তা উঠাইয়া সিমেন্টের বস্তা সহ ঠেলা গাড়ি, যাহার মূল্য অনুমান-৫৭,০০০/- টাকা এবং ০৬টি গ্যাস সিলিন্ডার বোতল, মূল্য অনুমান-৯,০০০/- টাকা চুরি করিয়া নিয়া যায়। বিবাদীরা চলিয়া যাওয়ার সময় আমার পার্টনারদের হুমকি দিয়া বলে যে, এলাকায় ইতিপূর্বে তাহারা ইটা বালুর ব্যবসা করিতো, এখন হইতে তাহারা ব্যবসা করিবে, আমরা যদি পুনরায় ব্যবসা করি তাহা হইলে আমাদেরকে কোপাইয়া জীবনে শেষ করিয়া ফেলিবে। বিবাদীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। আমরা যদি পুনরায় উক্ত এলাকায় ব্যবসা করি তাহা হইলে বিবাদীরা আমাকে সহ আমার ব্যবসায়ীক পার্টনারদেরকে কোপাইয়া খুন করিয়া ফেলিবে। সংবাদ পাইয়া আমি সহ আমার অন্যান্য ব্যবসায়ীক পার্টনারগন আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাইয়া আমার ব্যবসায়ীক পার্টনার দ্বীন ইসলাম ও মোজ্জাম্মেল দ্বয়কে গুরুতর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় উদ্ধার করিয়া ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল খানপুর, নারায়ণগঞ্জ নিয়া চিকিৎসা করাইয়া তাহাদের নিকট হইতে ঘটনার বিস্তারিত শুনিয়া ঘটনার বিষয়টি এলাকার স্থানীয় লোকজনকে জানাইয়া থানায় আসিয়া অভিযোগ দায়ের করিতে বিলম্ব হইল।

অতএব, উল্লেখিত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে মর্জি হয়।

Related Articles

Back to top button