আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচনে শফিউদ্দিন ঐক্য প্যানেলের নির্বাচন বয়কট

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
আগামী ২৮ জুন আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে সীমাহীন অনিয়ম, পক্ষপাতিত্বের প্রতিবাদে শফিউদ্দিন ঐক্য প্যানেল সমর্থিত সকল প্রার্থীর পক্ষ থেকে প্রহসনের নির্বাচন সম্পূর্ণ বয়কট ঘোষনা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে চাষাড়াস্থ ড্রিংক এন্ড ডাইন চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের প্রার্থীগণ এ নির্বাচন বয়কট ঘোষনা করেন।
প্রার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে মোঃ শফিউদ্দিন বলেন, আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে প্রধান শিক্ষক এবং কয়েকজন শিক্ষকের অনৈতিক ও পক্ষপাতমূলক আচরণ প্রতিষ্ঠানটির গৌরবময় ভাবমূর্তিকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। বিদ্যালয়ের অফিশিয়াল নম্বর থেকে সাধারণ অভিভাবকদের মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। বিদ্যালয়ের বেসরকারি শিক্ষকদের একটি দল তৈরি করে শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে কলঙ্কিত করে বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে নির্দিষ্ট প্যানেলের পক্ষে ভোট ভিক্ষা করানো হচ্ছে। সাধারণ অভিভাবকদের ব্যক্তিগত নম্বরে শিক্ষকরা নিজেরা ফোন দিয়ে নির্দিষ্ট প্যানেলকে ভোট দেওয়ার জন্য পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করছেন এবং প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের এমন নৈতিক স্খলন ও অবক্ষয় আমাদের চরমভাবে মর্মাহত করেছে। যেখানে শিক্ষকরাই পক্ষপাতিত্ব করছেন এবং পকেট কমিটি গঠনের চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন, সেখানে সাধারণ অভিভাবকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আর কোনো পরিবেশ অবশিষ্ট নেই। এই নির্বাচন এখন একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এটি সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যকার একটি প্যানেলভিত্তিক নির্বাচন। কিন্তু বিদ্যালয়ে তার অনুসারী শিক্ষকরা দল বেঁধে সাধারণ অভিভাবকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে – আমাদের প্যানেলটি নাকি “প্রধান শিক্ষকের বিপক্ষ প্যানেল”। এই ধরনের নোংরা অপপ্রচারের ফলে সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে, যা নির্বাচনের দিন বড় ধরনের নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি করেছে। সরকারি সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনে যদি নাশকতার আশঙ্কা বা বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সেই নির্বাচন স্থগিত করার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। বারবার প্রশাসনের কাছে সদস্য সচিবের (প্রধান শিক্ষক) এই সুনির্দিষ্ট উস্কানি ও অনিয়মগুলো তুলে ধরলেও তারা সম্পূর্ণ কর্ণপাতহীন থেকেছেন। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো এই নির্বাচনকে একটি পরিকল্পিত নাশকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এছাড়াও যখন মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাই, তখন স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির অনুসারী বহিরাগতরা বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়ে প্রার্থীদের সরাসরি বাধা সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সমাজসেবক সাহাবুল্লাহ রোমান ঘটনাস্থলে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে নিরাপদে মনোনয়নপত্র জমা দিতে সহযোগিতা করেন। প্রধান শিক্ষক নির্বাচনের তফসিল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যথাসময়ে প্রকাশ করেন নি, যার ফলে অভিভাবকগণ নির্বাচনের সময় সহ অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। এসব অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে রিটার্নিং অফিসার ও পরে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ পত্র প্রদান করলেও সেগুলোর কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নি।
তাই এর তীব্র প্রতিবাদ এবং শিক্ষকদের অনৈতিকতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে আমাদের প্যানেলের পক্ষ থেকে প্যানেলভুক্ত সকল প্রার্থী একযোগে এই নির্বাচন সম্পূর্ণ বয়কট ও বর্জন ঘোষণা করছি।



