তাজা খবরথানার সংবাদধর্ম ও শিক্ষারুপগঞ্জ থানাশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

পিতলগঞ্জ মাদ্রাসার দ্বায়িত্ব নিবেন ইউএনও, এক মাসের মধ্যে নির্বাচন

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলার পিতলগঞ্জ পশ্চিমপাড়া মোস্তফা-ই-সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা দাতা সদস্যদের বাদ দিয়ে জোড়পূর্বক কমিটি গঠন করে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা। এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা জানতে চাইলে তাদেরকে বিভিন্ন হুমকী-ধমকী দিচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসর সাবেক এডহক কমিটির সভাপতি রনি ভূইয়ার চাচা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আউয়াল ভূইয়া সহ কতিপয় দূর্ণীতিবাজরা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পিতলগঞ্জ পশ্চিমপাড়া মোস্তফাই সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন গোলাম মোস্তফা এবং দাতা সদস্য আব্দুল জব্বার। দীর্ঘদিন যাবৎ অত্র মাদ্রাসাটি সুনামের সাথে পরিচালনা করে আসছিলেন তারা। সময়ের পরিক্রমায় অত্র মাদ্রাসার দ্বায়িত্ব পান সাবেক সভাপতি ওবায়দুল মজিদ জুয়েল। পরবর্তীতে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এডহক কমিটির দ্বায়িত্বে আসেন রনি ভূইয়া। এসময় মেট্রোরেল এমআরটিএ লাইন ১ এর পিতলগঞ্জ প্রকল্পের কারনে পিতলগঞ্জ দাখিল মাদরাসার পুরনো ভবন সরিয়ে নেয়া হয়। ঐ সময় সাবেক সভাপতি ওবায়দুল মজিদ জুয়েল প্রকল্পের বাইরে জমি কিনে ভবন তৈরির ব্যবস্থা করেন। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারা যায় ক্রয়কৃত জমিটিতে সমস্যা রয়েছে। এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় পড়ে যাওয়ায় সেখান থেকে উত্তলনকৃত বিল থেকে প্রায় ১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাবেক সভাপতি ওবায়দুল মজিদ জুয়েল মাস্টার ও বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি রনি ভুঁইয়ার চাচা আব্দুল আওয়াল, সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম মাওলানা সালাহউদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোকসেদুর রহমান গং।
মাদ্রাসার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠা সদস্যরা জানান, আমাদের পরিবারের মাধ্যমে এ মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ইদানীং সময়ে তারা আমাদেরকে বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করে মাদ্রাসা থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। হিসাবের গড়মিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা আমাদেরকে বিভিন্ন হুমকী প্রদান করে এমনকি আমাদের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগও করেছে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, মাদ্রাসা মসজিদ সবকিছু আমাদের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হলো তবে সেখানে আমরা কেনো চাঁদাবাজি করবো। আর তারা কোন টাকার হিসাব সঠিকভাবে দিতে পারছেনা। কমিটির মেয়াদ শেষে যেই এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিলো সেই এডহক কমিটির মেয়াদ প্রায় তিন সপ্তাহ পূর্বে শেষ হয়ে গিয়েছে। আমরা চাই প্রশাসনিকভাবে এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং যারা দোষী তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।এব্যাপারে জানতে রুপগঞ্জ ইউএনও এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছুটা জানা আছে। যেহেতু সমস্যা বেশী তাই আমি নিজে সভাপতির দ্বায়িত্ব নিয়ে ১ মাসের মধ্যে একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবো। চলতি সপ্তাহে মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট সকলকে ডেকে এ বিষয়ে জানানো হবে।

Related Articles

Back to top button