তাজা খবরথানার সংবাদনারায়ানগঞ্জ সদর থানামহানগররাজনীতিশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

চাষাঢ়ায় ছাত্রদল কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আটক ১

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম: নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ছাত্রদল কর্মী অপূর্ব (২৩) কে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার (৯ মার্চ) রাতে শহরের চাষাঢ়া বালুরমাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
 
নিহত অপূর্ব ফতুলার মাসদাইল এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে। তিনি পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরীর টি-শার্ট গার্মেন্টসের শ্রমিক ছিলেন। আটকৃত হাবিবুল্লাহ বাহার সম্রাট (২০) শহরের গলাচিপা এলাকার মো. হোসেনের ছেলে। তিনি একটি ফাস্টফুডের দোকানে কাজ করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ৯ টার দিকে শহরের মাসদাইরে কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ হতে ধর্ষণবিরোধী মশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলটিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মী সহ নিহত অপূর্ব অংশগ্রহণ করে। মিছিল শেষে বালুর মাঠ এলাকায় চায়ের দোকানের সামনে নিহত অপূর্ব ও হামলাকারী সম্রাটের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলে। এক পর্যায়ে দুইজনের মধ্যে হাতাহাতি লেগে যায়। এসময় অপূর্ব মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যায়। পরে তার বুকে ছুরি বিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় হামলাকারী যুবকদের একজনকে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা। আর আহত অপূর্বকে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ঝগড়া থামাতে গিয়ে অপূর্ব খুন হয়েছেন দাবি করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আজিজুল ইসলাম রাজীব বলেন, রাতে ধর্ষণবিরোধী মশাল মিছিল অপূর্ব পেছনের দিকে ছিলো। মিছিল শেষে আমরা নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের দিকে যাচ্ছিলাম। তখন বালুর মাঠ এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে কয়েকজন যুবক একজন বৃদ্ধ ব্যক্তির সাথে ঝগড়া করছিল। বিষয়টি দেখে অপূর্ব তাদের থামাতে যায়। এসময় ওই যুবকদের মধ্যে থেকে একজন অপূর্বের বুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
নিহত অপূর্বর বাবা খোকন মিয়া বলেন, আমার ছেলে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছে। রাতে ছাত্রদলের মিছিল করার জন্য সে ওখানে গিয়ে খুন হয়। আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
কটূক্তির প্রতিবাদ করতে গিয়ে অপূর্ব খুন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ। তিনি বলেন, ধর্ষণের প্রতিবাদে ছাত্রদল নেতা রাজিবের নেতৃত্বে একটি মিছিল অংশগ্রহণ করে নিহত অপূর্ব। মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় সম্রাট সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। ওই সময় সম্রাট মিছিলের লোকজনদের উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করে। পরে মিছিল শেষে এ নিয়ে অপূর্ব ও সম্রাটের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে ও সম্রাটকে চড় থাপ্পর মারা হয়। এর এক পর্যায়ে অপূর্বর শরীরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে সম্রাট। সম্রাটের দাবি, সে তাদের মারধর থেকে বাঁচার জন্য অপূর্বকে ছুরি মেরেছে বলে আমাদের জানায়।
 
ছুরি রাখার বিষয়ে সম্রাটকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, রাতের বেলায় একা একা সে বাড়িতে ফেরার সময় তার ভয় লাগে। এ কারণে সাথে ছুরি রেখেছে। 
 
নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, অপূর্বকে একজন ছুরিকাঘাত করেছে। তাকে আটক করা হয়েছে। সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। 

Related Articles

Back to top button