ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে হামলা ও জাতীয় পতাকা অবমাননার প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল
প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে হামলা ও জাতীয় পতাকা অবমাননার প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসাবে, নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। রবিবার (৮ ডিসেম্বর) বিকাল ৪ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ভবনের সামনে ওই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোট নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সিপিবি নেতা ইকবাল হোসেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, যে কোন দেশে বিদেশি দূতাবাসের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব সে দেশের রাষ্ট্র ও সরকারের। অথচ ভারত সরকার বাংলাদেশ হাইকমিশনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। উপরন্তু ভারত সরকারের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি, শাসক দল বিজেপি ও পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উসকানিমূলক বক্তব্য এ ধরনের অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করছে। যা কূটনৈতিক শিষ্ঠাচার বর্জিত। এ সমস্ত ঘটনায় দুই দেশের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে পুষ্টি জোগালেও ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপদে পড়ছে দুই দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও নিরীহ জনগণ। জনগণের মধ্যে কোন ভুল প্রবণতা তৈরি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্র এবং সরকারের। কিন্তু সরকার এবং ক্ষমতাসীন দলের যে কোন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তব্য এবং ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভক্তি এবং বিরোধকে বাড়িয়ে তোলে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পদত্যাগ ও পলায়নের পর থেকে ভারতের এক শ্রেণির উগ্রবাদী মহল পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের বদলে ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার বিষয়ে প্রকৃত তথ্যের বদলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক প্রচার চালিয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরে কিছু উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে ধর্মীয় বিভাজনমূলক বক্তব্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের ঘটনা নিন্দনীয়। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে জরুরিভাবে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রতিটি দেশের পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত এবং নাম সেই দেশের জনগণের গভীর আবেগ ও মর্যাদার বিষয়। এর অবমাননা গর্হিত কাজ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু গত কয়েকদিনে এইসব নিন্দনীয় ঘটনা ঘটে চলেছে। তিনি এইসব কর্মকান্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান। কোন দেশের সংখ্যাগুরুর সাম্প্রদায়িকতা সংখ্যালঘুদের আতংকিত ও অসম্মানিত করে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকার এটা কোনভাবেই বরদাশত করতে পারে না।
অবিলম্বে এই ঘৃণ্য তৎপরতা বন্ধ করার দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ ভারত ও বাংলাদেশের সকল বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রকামী জনগণকে উভয় দেশের সাম্প্রদায়িক শক্তির উসকানির ফাঁদে পা না দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা ও সাম্প্রদায়িক বিরোধ সৃষ্টির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।


