ঈদে চট্টগ্রামবাসীর স্বস্তি নিশ্চিতে মাঠে জেলা প্রশাসন

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম: পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামবাসীর নিরাপদ, স্বস্তিময় ও আনন্দঘন ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। বাজার নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ, সড়ক নিরাপত্তা, কোরবানির পশু ও চামড়া ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
ঈদ উপলক্ষে আজ বুধবার (২৭ মে) জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসীর সঙ্গে এটি তাঁর দ্বিতীয় ঈদ। আর এবারের ঈদকে সামনে রেখে “উৎসবে নতুন সংস্কৃতি” গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসন বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, “দাম কমবে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ, রেয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও জেলা প্রশাসনের আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম জানান, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মসলাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। কিছু মসলার দাম কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। শুধু পাইকারি ও খুচরা বাজার নয়, বিভিন্ন চেইনশপও এই উদ্যোগে অংশ নিয়েছে।
তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক রাজধানী। তাই সাধারণ মানুষের উৎসবের আনন্দ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা দেশের ব্যবসাক্ষেত্রে রোল মডেল।”
তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর সমালোচনা করে জেলার এই অভিভাবক বলেন, “যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে, তারা প্রকৃত ব্যবসায়ী নয়। এই প্রতারক চক্রকে ধীরে ধীরে বিলীন করে দিতে চাই।”
ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান ডিসি জাহিদ। তিনি বলেন, গত ঈদে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি ছিল। তবে এবার এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে বড় কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে বাস উঠলে যাত্রীদের নামিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
কোরবানির পশু ব্যবস্থাপনা ও চামড়া সংরক্ষণকেও এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তাঁর ভাষায়, “উৎসব তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সমাজের সব শ্রেণির মানুষ সেই আনন্দে অংশ নিতে পারে।”
শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গতবার চট্টগ্রামে কিছু শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছিল। তবে এবার ঈদুল আযহার আগে শতভাগ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “শ্রমিক ভাইয়েরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। উৎসবের আগে তারা যেন তাদের প্রাপ্য বুঝে পান, সেটি নিশ্চিত করতে পারা আমাদের সবার জন্য আনন্দের।”
ব্যক্তিগত জীবন ও চাকরিজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের চাকরিজীবনে দায়িত্ব ও ব্যস্ততার পরিধি এতটাই বেড়েছে যে ছুটি বা ব্যক্তিগত পরিকল্পনার চেয়ে দায়িত্বই এখন বড় হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসক বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের চেয়ারটাই এমন, এখানে ছুটি নিয়ে ভাবার খুব বেশি ফুরসত নেই। তাই আমার সকল আয়োজন, পরিকল্পনা ও চিন্তাভাবনা চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করেই।”
মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার মানবতা। কেউ যত শিক্ষিতই হোক, যদি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারে, তাহলে সমাজের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করতে পারে না।”
প্রতি বুধবারের গণশুনানির প্রসঙ্গ টেনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্তা বলেন, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি মানুষের কথা শোনার চেষ্টা করেন এবং যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন।
চট্টগ্রামবাসী, ব্যবসায়ী সমাজ, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “চট্টগ্রামবাসী যেভাবে ‘উৎসবে নতুন সংস্কৃতি’ কার্যক্রমকে গ্রহণ করেছে, এটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।

