ওরা আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবেনা – শামীম ওসমান
খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারোয়ারের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩০ অক্টোবর) বাদ আছর চাষাড়ায় এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এ.কে.এম শামীম ওসমান বলেন, গোলাম সারোয়ার সম্পর্কে অনেকে হয়ত জানেন না। ওদের ব্যাচটা আমার কাছে সন্তানের মতো ছিল। সারোয়ার সবসময় ক্লাসের ফার্স্ট বয় ছিল। সে ছিলো একজন সৎ মানুষ। সারোয়ার কোন লোভ বা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেনি। ওদের ব্যাচের যারা ছিলো সকলেই ছিলো নির্লোভ ও স্বার্থহীন। ওর রাজনীতি করার কথা ছিল না। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু না হলে ও হয়তবা রাজনীতিতে আসত না আর আমরাও আসতাম না। রাজনীতি করতে গিয়ে সারোয়ার, মাকসুদ, লাল ওরা যে অবদান করেছে এতটা কেউ করেছে বলে মনে হয় না। ওদের কাছে পদ বড় ছিল না, দলের আদর্শই ছিলো বড়। ওদের চাওয়া ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, জাতির পিতার কন্যাকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাওয়া।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯৫ সালে আমি হীরা মহলে বসা। এখানে এক ওসি এলেন, তার চাকরি চলে যাওয়ার মতো অবস্থা। কেন ? কারণ, আমাদের গ্রেফতার করতে হবে। সারোয়ার, মাকসুদ, লাল, নিয়াজুল ওদের মধ্য থেকে একজনকে ধরতে হবে। তখন ওদের মধ্যে তর্ক কে গ্রেফতার হবে। পরে ওরা টস করে, টসে যে জিতে সে গ্রেফতার হয়ে থানায় যায়। আল্লাহর উপর বিশ্বাস আছে- আল্লাহ ওদের জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দিয়েছেন। আমি দেখেছি ওরা মানুষের জন্য কতটা কষ্ট করত। আমি ওদের জন্য আপনাদের কাছে দোয়া চাই।
এসময় শামীম ওসমান আরও বলেন, ২৮ অক্টোবর সমাবেশের নামে বিএনপি যে আগ্রাসন চালিয়েছে, সেটার বিচারের দায়িত্ব জনগণের হাতে দিলাম। বিএনপি যেভাবে পুলিশকে কুপিয়ে মেরেছে এটার বিচার আপনারাই করবেন। প্রধান বিচারপতির ওপর হামলা মানে রাষ্ট্রের ওপর হামলা, পুলিশকে কুপিয়ে মারা মানে আইনকে কুপিয়ে মারা। সাংবাদিকদেরও পিটিয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে মারলো, মহিলাদের মারলো। এবং লালমনিরহাটে আমাদের এক ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করলো। পুলিশের লোকটা পড়ে আছে। তার মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য তাকে চাপাতি দিয়ে কোপানো হলো, এটা কল্পনাতীত। এটা রাজনীতি হতে পারে না। ওরা আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না। এবার ওরা নাকে খত দিয়ে শেখ হাসিনার অধীনে আগামী নির্বাচনে আসবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ এবং সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


