
নিজস্ব প্রতিনিধি : দায়িত্ব পালনে সততা,নিষ্ঠা ও বিনয়ের জন্য পরিচিত নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নাজির মো. কামরুল ইসলামকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘আওয়ামী দোসর’ ও ‘ভূমিদস্যু’ তকমা দিয়ে ঘায়েলের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই অপপ্রচারের পেছনে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মামলার আসামী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সূত্রগুলো বলছে, অত্যন্ত কর্মঠ ও কর্তব্যপরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে কার্যালয়ের ভেতর-বাইরে সুনাম রয়েছে নাজির মো: কামরুল ইসলামের। সেবাগ্রহীতাদের কাছে সদা হাস্যোজ্জ্বল এবং ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশনা পালনে তৎপরতার কারণে কার্যালয়ে তার বিশেষ সুনাম রয়েছে।
কিন্তু এই সুনামই কাল হয়েছে তার জন্য। কার্যালয়ের ভেতর-বাইরের একটি পক্ষ তাকে বিতর্কে জড়াতে ‘অদৃশ্য মিশন’ শুরু করেছে। সরকারি কাজের অংশ হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তোলা পুরনো ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘পতিত আওয়ামী লীগের দোসর’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ফেসবুকের নামসর্বস্ব কয়েকটি পেইজে তাকে ও তার পরিবারকে ‘ভূমিদস্যু’ আখ্যায়িত করে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।আসলে তদন্ত করে জানা যায় কামরুল ইসলাম এই ভূমিদস্যুতার সাথে জড়িত নয়।তাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অনলাইন পোর্টালে নিউজ করা হয়েছে।
অপপ্রচারের কেন্দ্রে থাকা একটি ভিডিও কন্টেন্টে বন্দরের আমিরুল ইসলাম ও তার পুত্র আরিফের জমি দখলের অভিযোগ তোলা হয়। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, অভিযোগকারী এই পিতা-পুত্রই কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন তরুণ প্রজন্ম লীগের পদধারী নেতা।
আমিরুল ইসলাম বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং তার ছেলে আরিফ বন্দর উপজেলা তরুণ প্রজন্ম লীগের সভাপতি।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
১/বন্দর থানা মামলা : এফআইআর নং-৫৪/১৭৮, তারিখ ২৪/১০/২০১৮। ধারা: ১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩৭৯/৫০৬
২/বন্দর থানা মামলা : এফআইআর নং-১৩, তারিখ ১০/০৩/২০১০। ধারা: ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৬/৩৭৯/৫০৬
৩/যাত্রাবাড়ী থানা হত্যা মামলা : এফআইআর নং-৪৩, তারিখ ১৫/১/২০২৫। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা হত্যার অভিযোগ। ধারা: ১১৪/১৪৭/১৪৮/১০৯/৩০২/৩৪। জিআর নং-১০২৩।
এছাড়া বন্দরের ঐতিহ্যবাহী বিএম স্কুল এন্ড কলেজের প্রায় ২৩ শতাংশ জমি ভূয়া দলিল ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি করে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিষয়টি তৎকালীন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এমপি সেলিম ওসমানের হস্তক্ষেপে ৪ দিনের মাথায় তিনি আত্মসাৎকৃত টাকার চেক ফিরিয়ে দিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান বলে জানা গেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাজির মো:কামরুল ইসলাম বলেন,আমার ব্যাপারে একটি অনলাইন পোর্টালে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এটা আমার বিরুদ্ধে আনা একটি কুচক্রী মহলের এক গভীর ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। আমি সরকারের একজন ক্ষুদ্র কর্মচারী। আমি আইনের প্রতি শতভাগ শ্রদ্ধাশীল। আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমি এসবে মোটেও বিচলিত নই। কারণ আমি জানি, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র যতই বড় হোক না কেন, দিন শেষে সত্যেরই জয় হয়ে থাকে।এটাই মহান আল্লাহ পাকের বিচার। আমি সত্য পথে আছি এবং সত্য পথেই থাকবো ইনশাল্লাহ।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলাম ও তার ছেলে আরিফের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে ছবি থাকা স্বাভাবিক। সেই ছবি দিয়ে ‘দোসর’ তকমা দেওয়া একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি নজরে রেখেছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৎ ও দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাদের সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে হয়রানি করা হলে প্রশাসনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন।
আপনার মতামত লিখুন :