তাজা খবরথানার সংবাদফতুল্লা থানাশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ
শরিফ বাহিনী কর্তৃক যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন অন্তঃসত্ত্বাসহ পরিবারের ৪ জন আহত

ফতুল্লা প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর তা মীমাংসা করতে গিয়ে বিবাদীদের হামলায় একই পরিবারের ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। গত ৪ জুলাই (শনিবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার সময় ফতুল্লার কুতুবপুর ভূইগড় স্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা মোসাঃ পারভিন (৫০) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে কুতুবপুরের ভূইগড় স্ট্যান্ড এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মোঃ নাদিম শিমুলের (২২) সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় পারভিনের মেয়ে তায়েবা আক্তার সামিয়ার (২০)। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী নাদিম শিমুল, ননদ নাদিয়া আসলাম শিমলাসহ (২৮) পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সামিয়ার কাছে যৌতুকের দাবি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বাদী বাধ্য হয়ে বিবাদীদের নগদ ২ লাখ টাকা এবং ৩ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র প্রদান করেন। কিন্তু এতেও ক্ষান্ত হয়নি বিবাদীরা। সামিয়াকে দিয়ে জোরপূর্বক গৃহকর্মীর মতো কাজ করানো হতো এবং প্রতিবাদ করলে মারধর করা হতো। শুধু তাই নয়, বিয়ের সময় দেয়া ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কারও বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশে বিক্রি করে আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে স্বর্ণ ফেরত চাওয়ায় সামিয়াকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সামিয়া তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বারবার সংসারে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও বিবাদীরা আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে, অন্যথায় তাকে ঘরে তুলবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়।
সর্বশেষ গত ৪ জুলাই সন্ধ্যায় সামিয়ার মামা মোঃ আবির হোসেন (৪৫) বিষয়টি সমাধান করার জন্য বিবাদীদের অনুরোধ করতে গেলে ৪ নং বিবাদী শরিফ উদ্দিনের (৪৫) নেতৃত্বে বিবাদী নাদিম, শিমলা, ইউসুফ, পুলক ও আরমানসহ সবাই মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এ সময় সামিয়ার মা পারভিন, বাবা গিয়াস উদ্দিন, বোন সুমাইয়া আক্তার (২৬) এবং অপর অন্তঃসত্ত্বা বোন লামিয়া আক্তার (২২) বাঁচাতে এগিয়ে এলে বিবাদীরা তাদেরও পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে।
ভুক্তভোগীদের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীরা তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে চলে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন।

