তাজা খবরথানার সংবাদনারায়ানগঞ্জ সদর থানামহানগররাজনীতিশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ
ধর্ষণ নির্মূল কমিশন’ গঠনের দাবী ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার আহ্বায়ক মৌমিতা নূর ও সদস্য সচিব তাহমিদ আনোয়ার এক যৌথ বিবৃতিতে সাম্প্রতিক ধর্ষণ ও শিশু হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ‘ধর্ষণ নির্মূল কমিশন’ গঠন করার দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে আহ্বায়ক মৌমিতা নূর বলেন,আমরা এক বিচারহীনতার সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করি। ২৪’ পরবর্তী সময়ে বিচারব্যবস্থা ঢেলে সাজানো যেতো। কিন্তু তা হয়নি। যার ফলশ্রুতিতে শিশু আছিয়ার ধর্ষণ পরবর্তীতে হত্যাকান্ডের ঘটনা এই বাংলাদেশে ঘটেছে। সারাদেশ ধর্ষকের বিচারের দাবিতে একত্রিত হলেও এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় রাজধানীর পল্লবীতে রামিসা হত্যাকান্ড ঘটলো। এক বিভৎস ঘটনার সাক্ষী হলাম আমরা। ধর্ষকের বিচার নিশ্চিত করা গেলে ধর্ষণের মাত্রা কমে আসবে। একই সাথে আমাদের যে শিক্ষাব্যবস্থা এবং সমাজ বাস্তবতা এই পরিস্থিতিতে একটি পুরুষও ধর্ষক হিসেবে তৈরী হচ্ছে। আমরা এই পরিস্থিতি থেকে উতরাতে চাই এবং আমরা দাবি করছি রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ধর্ষণ নির্মূল কমিশন’ গঠন করা হোক। আমরা মনে করি শুধুমাত্র ধর্ষকের বিচার নিশ্চিতই ধর্ষণ এবং এই নিসংশতা কমাবে না বরং ধর্ষণ নির্মূল করতে আরো বেশি কর্মসূচী,জনসচেতনতা,স্বদিচ্ছার প্রয়োজন আছে। সে কাজ রাষ্ট্রীয়ভাবে হতে হবে। ধর্ষণ এখন একটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। একই সাথে ধর্ষণ নির্মূলে প্রশাসনের ভুমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। প্রশাসনের কার্যক্রম খুবই ধীর যা ধর্ষককে আরো উৎসাহ যোগায়।
সদস্য সচিব তাহমিদ আনোয়ার বলেন,আবারও প্রমাণ হলো এই রাষ্ট্র জনগণের নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ। একটি ৭ বছরের শিশুকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে, অথচ প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ এবং রাষ্ট্র যেন নির্বিকার দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে আছে। কোথায় ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর তৎপরতা? কেন প্রতিবারই এমন ঘটনার পর শুধু আশ্বাস শোনা যায়, কিন্তু বাস্তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না?
আজ দেশের মানুষ আতঙ্কে বসবাস করছে। নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ। অপরাধীরা জানে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক-প্রশাসনিক দুর্বলতা তাদের রক্ষা করবে। তাই একের পর এক ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, শুধু শোক প্রকাশ বা দায়সারা বক্তব্য দিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে না। রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং শিশু ও নারী নিরাপত্তায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় জনগণের ক্ষোভ আরও তীব্র হবে।


