ফতুল্লায় জামান মল্লিকের মাদকের রমরমা কারবার: অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

ফতুল্লা প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নের পূর্ব গোপালনগর এলাকায় মাদক ব্যবসার একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন জামান মল্লিক নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয় ১ নং ওয়ার্ডের আজহার মল্লিকের ছেলে জামান মল্লিকের এই অবৈধ কারবারে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়লেও তার বাহিনীর ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
মাদকের আড়ত ও বিক্রির কৌশল:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামান মল্লিক দীর্ঘ দিন ধরে পূর্ব গোপালনগর ও নবীনগর এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজার বিশাল আড়ত গড়ে তুলেছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই কেনাবেচা। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় কৌশলে সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে মাদক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সে একাধিক ‘সেলসম্যান’ বা নিজস্ব বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করেছে।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও স্থানীয়দের লাঞ্ছনা:
অভিযোগ রয়েছে, এই মাদক ব্যবসায় বাধা দিতে গিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন মুরুব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তি জামান মল্লিকের ক্যাডার বাহিনীর হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন। তার নিজস্ব একটি ক্যাডার বাহিনী রয়েছে যারা মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ভূমিদস্যুতার মতো অপরাধও নিয়ন্ত্রণ করে। প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশ থাকায় সে অনেকটা বীরদর্পেই এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
পুরানো অপরাধী ও আইনি ইতিহাস:
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক কেনাবেচার সময় জামান মল্লিক এর আগে বেশ কয়েকবার জেলা ডিবি পুলিশ ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। বিশেষ করে ২০১৬ সালে একটি বড় মাদকের চালানের মামলায় গ্রেফতার হয়ে সে তিন বছর জেল খাটে। তবে জেল থেকে বেরিয়ে এসে সে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে এবং বর্তমানে তা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
অভিভাবকদের উদ্বেগ ও এলাকাবাসীর দাবি:
বর্তমানে জামান মল্লিকের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে এলাকার সন্তান ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে, সেখানে জামান মল্লিকের মতো চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর প্রকাশ্যে বিচরণ প্রশাসনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের মরণ থাবা থেকে রক্ষা করতে জামান মল্লিক ও তার বাহিনীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে তারা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।