নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন,দ্বিধাগ্রস্ত তৃনমুলের নেতাকর্মীরা

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনীত প্রার্থী ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদের প্রার্থীতা কেন্দ্র করে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। এক অংশে প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদের অনুসারী হিসেবে রয়েছেন মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনু, সদস্য মনোয়ার হোসেন শোখন, ১২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, ১৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি শাহেন শাহ, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদ প্রমুখ। এছাড়াও বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুলও যোগ দিয়েছেন।
অপর অংশে রয়েছেন দলের ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতৃবৃন্দ। যার মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালাম, মহানগরের আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আবু জাফর আহমেদ বাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশা, সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক এড. আনোয়ার প্রধান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
গত কয়েকদিন পূর্বে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনে মহানগরের সকল নেতৃবৃন্দ বিভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাসুদুজ্জামান মাসুদের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের দাবী জানান। সেখানে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের মামলা হামলার শিকার হয়েছি। দিনের পর দিন পরিবার পরিজনদের ছেড়ে দূরে থাকতে হয়েছে তবুও বিএনপিকে ভুলে যাই নি। কিন্তু আজকে একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যা কিনা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। এতে করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের ভোটাররা দ্বিধাগ্রস্ত হবে এবং এ আসনটি আমাদের হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে। তাই তারা দলের হাই কমান্ডের প্রতি আহ্বান জানান যেন এ আসনটির ব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা হয়।
মহানগরের নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তিনি একজন নতুন সদস্য। দলে অনেক ত্যাগী নেতা রয়েছেন যাদেরকে মনোনয়ন দেয়া যায়। তাহলে কেনো তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলো সেই প্রশ্ন এখন দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝেও দেখা দিয়েছে। নেতৃবৃন্দের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি হওয়ায় তৃনমুলের কর্মীরা এখন অনেকটা দ্বিধার মধ্যে রয়েছেন। কারন হাই কমান্ডের পক্ষ থেকে এখনো কোন সিদ্ধান্ত জানানো হয় নি। যদি মাসুদুজ্জামান মাসুদকেই বহাল রাখা হয় তাহলে মহানগরের ত্যাগী নেতৃবৃন্দ কি করবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।