কুতুবপুরে যুবলীগ নেতা জুলহাস বাহিনীর হামলায় আহত চারজন, থানায় অভিযোগ
খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ভূইঘর পূর্বপাড়া এলাকায় জেলা যুবলীগ নেতা সাব্বির আহমেদ জুলহাস বাহিনীর হামলায় চারজন আহত হয়েছে। এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে কুতুবপুর ইউনিয়নের ভূইঘর পূর্বপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই কামরুজ্জামান ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানান, ভূইঘরে মারামারির একটি ঘটনা ঘটেছে এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
জুলহাস বাহিনীর হামলায় আহতদের মধ্য থেকে তসলিম রহমান জানান, ভুইগড় পূর্ব পাড়া হাকিমাবাদ কবরস্থান সংলগ্ন খালপাড়ের পাশে ১৮ শতাংশ জমি আছে সেখানে আজ আমার ছোট ভাই গিয়ে দেখতে পায় আমাদের জমিতে একটি সাইনবোর্ড লাগানো। তখন আমার ছোট ভাই সাইনবোর্ডটি উঠাইয়া ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে।জুলহাস বাহিনী পূর্ব পরিকল্পনা নিয়ে আমার ভাইকে একা পেয়ে লোহার রড়, চাপাতি, হকিস্টেক লােহার রড সহ দেশীয় অন্ত্র সস্র দিয়ে হামলা চালায় পরে তার চিৎকারে আমরা এগিয়ে গেলে আমাদের উপরেও হামলা চালায় এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি এই সন্ত্রাস বাহিনীর বিচার চাই।
ফতুল্লা থানায় দায়ের করা অভিযোগ টি তুলে ধরা হলো, বিনীত নিবেদন এই যে, আমি শেখ তসলিম রহমান (২৭), জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ৫৯৭৩ ২৯১৬৫০, পিতা- শেখ মুজিবুর রহমান, সাং- ভুইগড়, পূর্ব পাড়া থানা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়ণগঞ্জ থানায় হাজির হইয়া বিবাদী ১। রিপন (৩০), ২। লিটন (৩৩), ৩। জুলহাস (৪০), সর্ব পিতা- মৃত নবু মিয়া, ৪। সজিব (২৯), পিতা- বাবুল ভান্ডারী, ৫। লিটু (২৮), পিতা- অজ্ঞাত, সর্ব সাং- ভুইগড়, পূর্ব পাড়া থানা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়ণগঞ্জ সহ অজ্ঞাত নামা ৯/১০ জনদের বিরুদ্ধ এই মর্মে এজাহার দায়ের করিতেছি যে, উল্লেখিত বিবাদীদের সাথে ভুইগড় পূর্ব পাড়া হাকিমাবাদ কবরস্থান সংলগ্ন খালপাড়ের পাশে ১৮ শতাংশ জমি নিয়া বিরোধ চলিয়া আসিতেছিল। উল্লেখিত বিবাদীরা আমাদের তারিখ বেলা অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় আমার ছোট ভাই শেখ তহিদুর রহমান (২৪) জমিতে গিয়া দেখিতে পায় একটি সাইনবাোর্ড লাগানো। তখন আমার ভাই উক্ত সাইনবোর্ড উঠাইয়া ফেলিলে উল্লেখিত বিবাদীরা তাহাকে একা দেখতে পাইয়া বে-আইনি জনতা বদ্ধে হাতে লোহার রড়, চাপাতি, হকিস্টেক লােহার রড সহ দেশীয় অন্ত্র সস্রে সজ্জিত হইয়া আমাদের সম্পত্তিতে প্রবেশ করিয়া ছোট ভাইকে এলােপাতাড়ী ভাবে মারপিট শুরু করে। আমার ছোট ভাইয়ের চিৎকারে আমি আগাইয়া আসিলে উল্লখিত বিবাদীরা আমাকেও এলোপাতাড়ী ভাবে লাঠি ও হকিস্টিক দ্বারা আমাকে পিটাইয়া নীলা ফোলা জখম করে। আমাদের চিৎকারে আমার খালাতো ভাই ইমরান চৌধুরী (৩৫ ) ও ইকু চৌধুরী (৩৩) আমাদেরকে রক্ষা করিতে আসিলে ১নং বিবাদী তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়া মাথার উপরে স্বজোরে বারী মারিয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। ২নং বিবাদী তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়া তার বাম পায়ের গাড়ালীর উপর আঘাত করিয়া পা ভাঙ্গিয়া ফেলে। ৩নং বিবাদী তাহার হাতে থাকা হকিস্টিক দিয়া খালাতোে ভাই ইকু চৌধুরীর বাম চোখে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করিয়া রক্তাক্ত জখম করে। আমি ঠেকাতে গেলে ৪নং বিবাদী তাহার হাতে থাকা রামদা দিয়া আমার ডান হাতের কনুইয়ের উপর কোপ মারিয়া রক্তাক্ত জখম করে। ৫নং বিবাদী আমার হাতে থাকা একটি স্যামসং টার্চ ও একটি সিম্পনী বাটন মােবাইল সেট আমার হাত থেকে জোর করিয়া নিয়া ভাঙ্গিয়া অনুমান- ২৫,০০०/- টাকার ক্ষতি সাধন করে। ১নং বিবাদী আমার খালাতাোে ভাই ইমরান চৌধুরীর হাতে থাকা একটি স্যামসং মাবাইল সেট মূল্য অনুমান- ২৫,০০০/- টাকা, ৩নং বিবাদী আমার খালাতো ভাই ইকু চৌধুরীর হাতে থাকা একটি শাওমী মােবাইল সেট মূল্য অনুমান- ৪০,০০০/- টাকা নিয়া নেয়। ২নং বিবাদী আমার গায়ের টি-শার্ট ছিড়িয়া ফেলে এবং প্যান্টের পকেটে থাকা ১০,০০০/- টাকা নিয়া যায়। আমাদের চিত্কারে আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে বিবাদীরা হুমকি দিয়া চলিয়া যায়।পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিয়া
আমাদেরকে উদ্ধার করিয়া চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নারায়ণগঞ্জে নিয়া যায়। ঘটনার বিস্তারিত স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানাইয়া থানায় আসিয়া এজাহার দায়ের করিতে সামান্য বিলম্ব হইল।
অতএব, উল্লেখিত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে মর্জি হয়।


