তাজা খবরথানার সংবাদশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দসিদ্ধিরগঞ্জ থানা

টাইগার ফারুক প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আতংকে এলাকাবাসী

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলামের কার্যালয়ে হামলা চালানো শীর্ষ মাদক সম্রাট টাইগার ফারুক প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কয়েকদিন আত্মগোপনে থাকলেও গত শনিবার (২৭ আগষ্ট) সংসদ সদস্য একএম শামীম ওসমানর উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের মিছিল মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা টাইগার ফারুকের উপস্থিতিতে এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। এদিকে, তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত বুধবার (২৪ আগষ্ট) সন্ধ্যায় নাসিক ১নং ওয়ার্ডের মিজমিজি তারা মার্কেট এলাকায় কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলামের নিজ বাড়িতে অবস্থিত কার্যালয়ে মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা টাইগার ফারুকের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুইশত সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয় হামলা চালায়। এসময় এ সন্ত্রাসী বাহিনী কাউন্সিলরের বাড়িতে তান্ডব চালায় এবং কাউন্সিলরের লোকজনকে মারধর করে। এতে এলাকায় আতংকের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনায় গত বহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) সকালে নাসিক ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের অফিস সহকারী আবিদ হাসান রাকিব বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা (যার নং-৪৫) দায়ের করে। মামলার প্রতিপক্ষ মোঃ স্বপন ওরফে কসাই স্বপন সহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলামসহ ৫ জন আহত হন।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন, টাইগার ফারুক (৪২), তানজিম কবির সাজু (৩৮), মোঃ আরাফাত রহমান বাবু (২৯), মিলন হাসন (৩০), মাঃ সোহেল (৩২), মোঃ শরীফ (২৯), মোঃ স্বপন ওরফে কসাই স্বপন (৩২), মোঃ সিফাত হাসান (২৪), মোঃ জসিম হাসান (৩৮)।
এলাকাবাসী বলেন, এই হামলার ঘটনার প্রধান আসামি নাসিক ১নং ওয়ার্ডের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের লিডার এবং বিভিন্ন নাশকতার পরিকল্পনাকারী টাইগার ফারুক প্রকাশ্য দিবালোকে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এলাকায়। এই প্রধান আসামি ঘুরে বেড়ানো দেখে সাধারণ মানুষের ভিতর আতংক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী মনে করছে যে, টাইগার ফারুকের নিজস্ব বাহিনী আছে। এই বাহিনী দিয়ে যেকোন সময় আবারো হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। কিন্তু সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ বলছে এই মামলার প্রধান আসামিক আমরা খুঁজে পাচ্ছিনা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শনিবার (২৭ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নাসিক ২নং ওয়ার্ডের চাঁদাবাজ রাজু’র বাসভবনের সামনে দেখা যায় টাইগার ফারুককে। শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের লিডার টাইগার ফারুকের সাথে চাঁদাবাজ আমিনুল ইসলাম রাজু এবং আরেক চাঁদাবাজ আজিজের সাথে তার ভালো সখ্যাতা রয়েছে। টাইগার ফারুক হলো এক প্রকারের সুবিধাবাধী লোক। যেখানে তার নিজের স্বার্থ আছে তাদের সাথে সখ্যাতা তার বেশী থাকে। শুধু তাই নয় ঐদিন সন্ধ্যায় টাইগার বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয় এলাকায় মহড়া দেয়। টাইগার ফারুক বাহিনীর মহড়া দেওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্য আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
হামলার শিকার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম জানান, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমি নাসিক ১নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি। এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের লিডার টাইগার ফারুক বাহিনী আমার আফিসে হামলা চালায়। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা আছে, তারপরও পুলিশ তাদেরকে ধরছেনা। টাইগার ফারুক প্রকাশ্যে বাইরে দিব্যি চলাফেরা করছে। আর পুলিশ বলে তাকে খোঁজ করে পাওয়া যাচ্ছেনা। আমার মনে হয় টাইগার ফারুকের সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশেরা চোর চোর খেলা খেলছে।
উল্লেখ্য যে, সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় যানজট নিরসনের জন্য সুজন নামের এক যুবককে লাইনম্যান নিযুক্ত করেন তিনি। সন্ধ্যার আগমুহূর্তে তিনি যখন যানজট নিরসনের দায়িত্ব পালন করছিলেন ওই সময় ফরহাদ নামের এক লোক উল্টাপথে যাচ্ছিলেন। তখন সুজন তাকে উল্টাপথে আসত বাঁধা দিলে ফরহাদ তাকে মারধর করে। তৎক্ষণাত এ ঘটনা সুজন আমাকে জানালে আমি ফরহাদকে তাকে অফিসে নিয়ে আসতে বলি। তখন মাগরিবের আজান দিয়ে দেওয়ায় আমি ফরহাদক অফিসে রেখে নামাজ পড়তে যাই। এর কিছুক্ষণ পর সে ফোন দিয়ে তানজিম কবির সাজু, টাইগার ফারুক, তার সহকারী বাবু, মিলন, শরীফসহ আরো কয়েকজনকে জানায়। তারাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোক আমার কার্যালয়ে এসে হামলা করে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই দুই জনকে গ্রেফতার করেছি। বাকীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

Related Articles

Back to top button