প্রীতিলতার আত্মাহুতি দিবসে নারায়ণগঞ্জে আলোচনা সভা


Jahid প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ৯:০৪ অপরাহ্ন / ০ Views
প্রীতিলতার আত্মাহুতি দিবসে নারায়ণগঞ্জে আলোচনা সভা

প্রেস রিলিজ: বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এর ৯৪ তম আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষ্যে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও সমাজতান্ত্রিক  ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার  বিকাল ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় । সভার সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মিমি পুজা দাস, বক্তব্য রাখেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব,  সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়নগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সাম্রাজ্যবাদ ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মহান বিপ্লবী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। ১৯৩২ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেতৃত্ব দেন তিনি। কোনভাবেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে মাথানত নয়, তার জন্য  বীরত্বের সাথে আত্মাহুতি দেন । প্রীতিলতা ছিলেন শোষণের বিরুদ্ধে এক  অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। যে ক্লাবের বাইরে লেখা ছিল ‘কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ’, প্রীতিলতা তাঁর সাহসী স্কোয়াড নিয়ে সেই বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক আস্তানায় আঘাত হেনেছিলেন। যখন তিনি ঔপনিবেশিক পুলিশের হাতে অবরুদ্ধ হন, তখন শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ না করে পটাসিয়াম সায়ানাইড গ্রহণ করে আত্মদানের পথ বেছে নেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছিল যে, দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির লড়াইয়ে নারীরা কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই।
নেতৃবৃন্দ  আরও বলেন, প্রীতিলতা যে শোষণমুক্ত, স্বাধীন ও সমতাভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। আজও নারীকে দেখা হয় ভোগের সামগ্রী হিসেবে। পুঁজিবাদী ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার কারণে বর্তমান সমাজেও ঘরে-বাইরে নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, শিশু ধর্ষণ এবং বৈষম্য অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর মর্যাদা ও সমঅধিকার  এখনো প্রতিষ্ঠা হয় নি। আজকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটলেও এদেশের সাধারণ মানুষ, ছাত্র সমাজ ও নারী সমাজ পূর্ণাঙ্গ মুক্তি পায়নি। সমাজজুড়ে  বহুজাতিক সাম্রাজ্যবাদী লুটেরা শক্তি বিস্তার করছে, আমাদের দেশকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। শাসকগোষ্ঠীর মদদে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণ চলছে, যা প্রীতিলতার স্বপ্নের বৈষম্যহীন সমাজ ভাবনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
নেতৃবৃন্দ ছাত্র ও যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বীরকন্যা প্রীতিলতার আত্মত্যাগ ছিলো একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র তৈরি  যা আজ  হয় নি। বর্তমান সময়ে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের নয়া রূপ এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে চলমান সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রীতিলতার লড়াকু আপসহীন চেতনাই আমাদের মূল প্রেরণা। সমস্ত প্রকার শোষণ, লিঙ্গ বৈষম্য ও নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট প্রীতিলতার বিপ্লবী আদর্শকে ধারণ করে দেশের সকল স্তরের মানুষ কে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা নির্মাণের লড়াইয়ে   আন্দোলনে শামিল হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।