সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস বন্ধ, শ্রমিকদের পাওনা দাবিতে স্মারকলিপি


Jahid প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ন / ০
সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস বন্ধ, শ্রমিকদের পাওনা দাবিতে স্মারকলিপি
প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
তিন মাস ধরে বন্ধ থাকা নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম মাসদাইর, ফতুল্লায় অবস্থিত সেঞ্চুরি এ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের আইনানুগ সকল পাওনা পরিশোধ এবং চলমান সংকটের দ্রুত সমাধানের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
আজ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে কারখানা বন্ধের ফলে শত শত শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার যে চরম আর্থিক ও মানবিক সংকটে পড়েছেন, তা তুলে ধরে শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা দ্রুত নিরূপণ ও পরিশোধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সেঞ্চুরি এ্যাপারেলস লিমিটেড ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহসভাপতি হাসনাত কবির, ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিমসহ ইউনিয়নের শ্রমিক সদস্যবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সেঞ্চুরি এ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকরা বিভিন্ন পদে ও বিভিন্ন মেয়াদে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। শ্রমিকরা প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত শ্রমিক ইউনিয়নের মাধ্যমে তাঁদের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার চর্চা করে আসছেন।
কিন্তু ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে কর্তৃপক্ষ শ্রমিক ইউনিয়ন ও শ্রমিকদের যথাযথভাবে অবহিত না করে হঠাৎ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শত শত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং তাঁদের পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত আয় বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের বাড়িভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ব্যয় এবং বাবা-মায়ের ভরণপোষণসহ দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কারখানাটি অন্য একটি শিল্পগোষ্ঠীর কাছে হস্তান্তর বা বিক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে শ্রমিকরা জানতে পেরেছেন। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা নিশ্চিত না করে কারখানা হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলে শ্রমিকদের অধিকার আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ), কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিভাগীয় শ্রম দপ্তর এবং ফতুল্লা মডেল থানাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিকেএমইএর সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগ করে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায় ও সংকট সমাধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর ও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।
বিভাগীয় শ্রম দপ্তরে লিখিত অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ত্রিপক্ষীয় গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শ্রমিকরা যথাসময়ে উপস্থিত থাকলেও মালিকপক্ষ সেখানে উপস্থিত হয়নি। পরবর্তীতে মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে ৩০ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হয়নি।
এ অবস্থায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ ও যোগাযোগ করেও কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় শ্রমিকরা নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শ্রমিকদের দাবি
১. সেঞ্চুরি এ্যাপারেলস লিমিটেডের সকল শ্রমিকের আইনানুগ পাওনা দ্রুত নিরূপণ ও সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে।
২. শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি, ক্ষতিপূরণ, চাকরির অবসানজনিত ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে।
৩. শ্রমিকদের পাওনা নিষ্পত্তি না করে কারখানা হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের আইনগত অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. শ্রমিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকর ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সংকটের সমাধান করতে হবে।
৫. দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের মানবিক সংকট বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ তিন মাস ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিক পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাই আর কোনো বিলম্ব না করে শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে সেঞ্চুরি এ্যাপারেলসের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সংকটের আইনসম্মত, ন্যায়সংগত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে।