প্রায় ১০০ কোটি টাকার লেকপাড়ে ‘সিটি বাজার’, অনুমতি ও বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন
Jahid
প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ন /
০

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ডিএনডি লেকপাড়ের জায়গায় ‘সিটি বাজার’ স্থাপনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। লেকপাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য নির্মিত স্থানে নতুন করে দোকান বসানো, দোকান বরাদ্দ এবং উচ্ছেদের পর আবার দোকান স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশের ডিএনডি খালের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে ৯৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। প্রকল্পটির আওতায় লেক, রাস্তা, ও হাঁটার পথসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় লেকপাড়ের জায়গায় দোকান বসানো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ওই এলাকায় শতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হলেও কয়েকদিন পর আবার দোকান বসানোর অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—উচ্ছেদের পর নতুন করে দোকান বসানোর অনুমতি বা সিদ্ধান্ত এল কীভাবে?
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি তিনি দাবি করেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক তাকে সিটি বাজার করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন এবং তিনি লেকপাড়ে সিটি বাজার করে দিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো লিখিত অনুমোদন বা অফিসিয়াল নথি প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, লেকপাড়ের জায়গায় দোকান বসানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা পুরোনো দোকানদারদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বহু বছর ধরে ব্যবসা করা দোকানদারদের পরিবর্তে নতুন করে অনেককে জায়গা দেওয়া হয়েছে। তবে কারা কী প্রক্রিয়ায় দোকান পেয়েছেন এবং কোনো লিখিত বরাদ্দ তালিকা রয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
শুধু সিদ্ধিরগঞ্জ পুল নয়, ডিএনডি লেকপাড়ের বিভিন্ন অংশে হকার ও অস্থায়ী দোকান বসার বিষয়েও এর আগে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে কদমতলী এলাকায় লেকপাড়ের ফুটপাত ও চলাচলের পথ দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে সিটি করপোরেশনের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। একই প্রতিবেদনে সিদ্ধিরগঞ্জ পুলে হকার পুনর্বাসনের নামে লেকপাড়ে ‘সিটি বাজার’ করার অভিযোগও উঠে আসে।
এদিকে ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদনে সিদ্ধিরগঞ্জের লেকপাড়ের বিভিন্ন অংশে অবৈধ দখলের অভিযোগের কথাও উঠে এসেছিল। অর্থাৎ লেকপাড় দখল ও দোকান স্থাপনের বিষয়টি নতুন নয়; বরং প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় থেকেই এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ব্যারিকেড কাটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে
লেকপাড়ের রাস্তার পাশে পথচারী ও যানবাহনের নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা লোহার ব্যারিকেডের অংশ কেটে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—ব্যারিকেড কাটার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না। যদি অনুমতি ছাড়া সরকারি স্থাপনার অংশ কেটে ফেলা হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও জানতে চান তারা।
রাস্তার ওপর দোকান, বাড়ছে জনদুর্ভোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, লেকপাড়ের নির্ধারিত জায়গার পাশাপাশি রাস্তা ও ফুটপাতের ওপরও দোকান বসানো হচ্ছে। এতে পথচারীদের চলাচল এবং যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান চালানো হয়েছে। এপ্রিলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছিল জেলা প্রশাসন। তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পুনরায় দখল হলে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হবে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, প্রায় ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি করা লেকপাড়ে যদি বাজার বসানো হয়, তাহলে সেটি প্রকল্পের অনুমোদিত পরিকল্পনার অংশ কি না। আর যদি এটি হকার পুনর্বাসনের উদ্যোগ হয়ে থাকে, তাহলে এর লিখিত নীতিমালা, দোকান বরাদ্দের তালিকা, বরাদ্দের শর্ত এবং অর্থ লেনদেনের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে কি না সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের দাবি, লেকপাড়ে সিটি বাজার স্থাপনের অনুমোদন, দোকান বরাদ্দের তালিকা, বরাদ্দের নীতিমালা এবং ব্যারিকেড কাটার অনুমতির বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আনা হোক। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পের জায়গা যাতে ভবিষ্যতে অনিয়ম বা অবৈধ দখলের মাধ্যমে স্থায়ী বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :