প্রকৃত হকারদের তালিকা করে রেললাইনের পাশে পুনর্বাসন: নাসিক প্রশাসক


rabby প্রকাশের সময় : Jul ২৭, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন /
প্রকৃত হকারদের তালিকা করে রেললাইনের পাশে পুনর্বাসন: নাসিক প্রশাসক

নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি হকারদের জীবিকা সুরক্ষায় রেললাইনের পাশের খালি জায়গায় অস্থায়ীভাবে হকারদের স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)। এ জন্য প্রথমে প্রকৃত হকারদের তালিকা প্রস্তুত করে নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নাসিক প্রশাসক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন খান।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে নগরীর চাষাঢ়া থেকে ২ নম্বর রেলগেটের গলাচিপা এলাকায় রেললাইনের পাশের নির্ধারিত স্থানে হকারদের স্থানান্তরের প্রস্তুতি ও সার্বিক কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসিক প্রশাসক বলেন, “এই শহরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছে। সবার স্বার্থ রক্ষা করে একটি সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আপাতত রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায় তাদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে যাকে-তাকে হকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।”

তিনি বলেন, “প্রথমে আমরা একটি তালিকা করব। প্রকৃত হকারদের শনাক্ত করে তাদেরই স্থান দেওয়া হবে। পূর্বে যাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তাদের একইভাবে পুনরায় বরাদ্দ দেওয়া হবে না। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বসানো হবে।”

সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, নির্ধারিত স্থানের পরিমাপ শেষে প্রতিটি ব্যবসায়ীর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করা হবে। প্রতিটি স্টলের নম্বর নির্ধারণ করা হবে এবং সেই নম্বর অনুযায়ী হকাররা ব্যবসা পরিচালনা করবেন।

তিনি বলেন, “জায়গাটি অনেক বড়। পরিবেশ উন্নয়ন করা গেলে ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে এখানে আসবেন। সামনের দিকে রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এতে হকাররা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।”

কোন কোন এলাকার হকারদের স্থানান্তর করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নগরীর বিবি রোড, সলিমুল্লাহ রোড, শায়েস্তা খান রোড এবং খানপুর হাসপাতাল রোডের হকারদের পর্যায়ক্রমে নতুন স্থানে স্থানান্তর করা হবে।

রেললাইনের পাশের স্থানে অস্থায়ী মার্কেট নির্মাণে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে নাসিক প্রশাসক বলেন, “নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আপাতত চাষাঢ়া থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত বাঁশ দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেখানে ইটের স্থায়ী দেয়াল নির্মাণ করা হবে, যাতে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষের কোনো ঝুঁকি না থাকে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।”

তিনি আরও জানান, হকারদের নতুন স্থানে স্থানান্তরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও দ্রুতই অস্থায়ী এই মার্কেট উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।