
খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত দাসত্বের চুক্তি বাতিল ও চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের ইজারা দেয়ার পায়তারা বন্ধ ও খুন, সন্ত্রাস চাদাঁবাজির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর দাবিতে বাসদের পক্ষকাল ব্যাপি অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে নগরীর ২নং রেল গেইটে বাসদের পথসভা অনুষ্ঠিত।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশীদের ইজারা দেওয়ার পায়তারা বন্ধ ও খুন-সন্ত্রাস-চাদাঁবাজির বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক বাসদের উদ্যোগে আজ বিকাল ২৭ জুলাই ২০২৬ সোমবার বিকেল ৫ টায় ২ নং রেল গেইট এলাকায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব কমরেড আবু নাঈম খান বিপ্লব, বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়নগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার বর্ধিত ফোরামের সদস্য হাসনাত কবির, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার দপ্তর সম্পাদক রুহুল আমীন সোহাগসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ বলেন,মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিকে দাসত্বের এবং দেশ বিক্রির গোলামী চুক্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জুলাই এর চেতনা ছিল বৈষম্যের বাংলাদেশের বিপরীতে সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। অথচ জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের জাতীয় স্বার্থকে বিপন্ন করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে দেশকে নতজানু করার একের পর এক কার্যক্রম করেছে। তার অংশ হিসেবেই মার্কিনীদের সাথে এই অসম বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করেছে। আর বর্তমানের নির্বাচিত সরকার সেই চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ না নিয়ে সংসদে কোন প্রকার আলোচনা ব্যতীত চুক্তি বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। ফলে অতীতের মতোই জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং সরকারকে চুক্তি বাতিলে বাধ্য করতে হবে। একই সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেয়ার পাঁয়তারা চলছে। এভাবে দেশের লাভজনক একটি টার্মিনালকে বিদেশি কোম্পানির হাতে যার রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এদের হাতে তুলে দেয়ার মধ্য দিয়ে শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয় ভূ-রাজনৈতিকভাবেও বাংলাদেশ একটি গভীর সংকটে নিমজ্জিত হবে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আমেরিকার সাথে দেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী অসম বাণিজ্য চুক্তি দেশীয় শিল্প, কৃষি ও অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারনে জনগন দিশেহারা হয়ে পড়ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শহরে এখন একটা ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যত্রতত্র ছিনতাই, ছিনতাই করতে যেয়ে হত্যা করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, এবং চাঁদাবাজি ব্যাপক বেড়েছে। যেখানে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেখতে পাচ্ছি না। অন্যদিকে মাদকের ভয়াবহতা, মাদকবিক্রি নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ যেন এক ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে জনগনের উপর, এবং প্রতি মূর্হুতে মানুষ ভয়ের মধ্যে থাকে। এর থেকে পরিত্রান পেতে হলে প্রশাসনের নজরদারি আরো বাড়ানো দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
আপনার মতামত লিখুন :