তাজা খবরথানার সংবাদনারায়ানগঞ্জ সদর থানামহানগরশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দসাহিত্য ও সংস্কৃতি

নারায়ণগঞ্জ চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : পুঁজিবাদী ভোগবাদী ও সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির বিপরীতে শোষণহীন সমাজ নির্মাণের পরিপূরক সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে  আজ বিকাল ৫ টায় ২ নং রেল গেইট বাসদ কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক প্রদীপ সরকার এবং পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব জামাল হোসেন। বক্তব্য রাখেন চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাসদ-এর কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কমরেড নিখিল দাস,  নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিন, প্রগতি লেখক সংঘের জেলা সভাপতি জাকির হোসেন, কবি রঘু অভিজিৎ রায় প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মানুষের চিন্তা-চেতনা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে ভোগবাদী ও সাম্প্রদায়িক ধারায় প্রভাবিত করা হচ্ছে। শাসকগোষ্ঠী মুক্তচিন্তা ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক চর্চাকে দুর্বল করে সমাজকে বিভাজিত করার চেষ্টা করছে। এর ফলে একটি অসহিষ্ণু ও বিভক্ত সমাজ বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই সংকটময় হয়ে উঠছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ দুর্বল হয়ে পড়ছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে এবং বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়নের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাষ্ট্রক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রিকতা জনগণের অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অসহিষ্ণুতা বাড়িয়ে তুলছে।

বক্তারা উল্লেখ করেন, একইসাথে অর্থনৈতিক বৈষম্য, বেকারত্ব এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। কিন্তু এসব মৌলিক সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রাধান্য পাচ্ছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সাথে সাংঘর্ষিক।
এই পরিস্থিতিতে শোষণমুক্ত, সাম্যভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অংশ হিসেবে একটি শক্তিশালী প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে গণমানুষের সংস্কৃতি চর্চা, মানবিক মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িকতা এবং মুক্তচিন্তার পক্ষে কাজ করে আসছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে বক্তারা সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত সকল প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পুঁজিবাদী ও সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

Related Articles

Back to top button