বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন তবু আপোষ করেন নি – এড. আব্দুস সালাম

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি পালন উপলক্ষ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে খানপুর হাসপাতাল প্রাঙ্গনে ড্যাব (ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) এর উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর ডাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এড. আব্দুস সালাম।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই-আগস্ট এর বর্ষপূর্তী উপলক্ষ্যে সারাদেশে যে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী পালিত হচ্ছে তার অর্থ হলো, আমরা যেন রক্ত দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে থাকতে পারি। কিন্তু একটি কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী এককভাবে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে নিজেদের পকেটস্থ করতে চায়। এতে করে জাতির সামনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে চায়। একটি আন্দোলন যখন শুরু হয় তখন এর সমাপ্তিও হবে।
২০১৬ সাল থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শুরু হয়েছে। এসময়ের মধ্যে আমাদের হাজারো নেতাকর্মী গুম, খুন, হামলা, মামলার শিকার হয়েছে। তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করেছিলাম সেটার শেষ হয়েছে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। তখন শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
কোটা আন্দোলন যখন হয় সেখানে কি গণতন্ত্রের কোন শব্দ ছিলো, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে হবে এমন কোন বিষয় ছিলো, না। কোটা আন্দোলন ছিলো একটি যৌক্তিক বিষয় নিয়ে, একটি বৈষম্য নিয়ে। যার সাথে আমরাও একাত্মতা প্রকাশ করেছিলাম।
বেগম খালেদা জিয়া যদি তত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে শেখ হাসিনা বা তৎকালীন সরকারের সাথে আপোষ করতেন তাহলে কি তিনি জেলে যেতেন, তার বিরুদ্ধে কি কোন মামলা হতো ? তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন তবুও আপোষ করেন নি। তারেক রহমান আপোষ করলে তাকে ১৭টি বছর দেশের বাইরে থাকতে হতোনা। জিয়াউর রহমান জানতেন যদি তার ডাকে জনগণ সারা না দেয় তাহলে তার কোর্ট মার্শাল হবে। আর জাতি যার কাছ থেকে আশা করলো তিনি পাকিস্তানে চলে গেলেন।
এখন আবার ষড়যন্ত্র হচ্ছে, কি ষড়যন্ত্র। যত চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসী কার্যক্রম সবকিছু করছে বিএনপি। আর আওয়ামী লীগ চায় দেশে কোন নির্বাচন না হউক। কিছু দল প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ ভাবে এসকল কর্মকান্ড করছে। ঐ সকল নিবন্ধিত দলগুলোকে অনুরোধ করবো, দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক আর আপনারা সহযোগীতা করুন। জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের নেতা নির্বাচিত করুক যারা সংসদে গিয়ে জনগণের কথা বলবে, দেশের উন্নয়নের কথা বলবে।
বক্তব্য শেষে রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন এড. আব্দুস সালাম।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, খানপুর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক আবুল বাশার, এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, টিপু, মাসুকুল ইসলাম রাজিব, অধ্যাপক মামৃন মাহমুদ, ডাঃ মুজিবুর রহমান সহ প্রমুখ।




