উচ্ছেদকৃত কুমুদিনী উত্তর ও দক্ষিণ বাগান বাসীর ওয়াদাকৃত ক্ষতিপূরণের দাবীতে মানববন্ধন
খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
শত বছরের বাসস্থান থেকে অন্যায় ও ভয়ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদকৃত কুমুদিনী উত্তর ও দক্ষিণ বাগানবাসীকে ওয়াদাকৃত ক্ষতিপূরণের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে উচ্ছেদকৃত কুমুদিনী উত্তর ও দক্ষিণ বাগানবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, কুমুদিনী বাগানবাসীকে নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবেনা। তাদের প্রত্যেকটি অন্যায় সিদ্ধান্তকে বাতিল করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যদি কোন অন্যায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেগুলোও বাতিল করা হবে। হয়তো আপনাদের বিষয়টি হাস্যকর মনে হতে পারে যে, স্বাধীন দেশে হাতে মাইক পেয়ে বড় কথা বলছি। কিন্তু না, আমি হলফ করে বলতে পারি এই উচ্ছেদের পিছনে স্বয়ং শেখ হাসিনার হাত রয়েছে। কারন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আপনারা সবাই যেতে না পারলেও কিছু লোক তো সেখানে ছিলেন। সেখানে শেখ হাসিনা বার বার বলেছিলেন, রাজিব আমার ছোট ভাই। তার ফুপু জয়া আমারও ফুপু। তার বাসায় অনেক খেয়েছি। দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বার বার একথা বলতে পারেনা। এটার মানে হচ্ছে রাজিব বাবুর হাত কতটুকু সেটা বোঝানো। অতএব এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। তত্বাবধায়ক সরকারের কাছে বিনিত অনুরোধ থাকবে, কুমুদিনী বাসীকে পূর্ণবাসন ছাড়া যেন এখানে হাসপাতালের কোন কাজ করতে না দেয়। আর এটাতো হাসপাতাল না, হাসপাতালের নামে দখল করে গোডাউন তুলে ভাড়া দিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আজকে তিন বছর হলো অথচ একটি ইটও হাসপাতালের জন্য গাঁথা হয় নি। এর থেকে কি বোঝা যায় ? আমরা তাকে বলেছিলাম, ত্রি পক্ষিয় কমিটি গঠন করতে। তাকে বলা হয়েছিলো, যাকে আক্ষরিক অর্থে বাগানবাসী হিসেবে পাওয়া যাবে তাকে দলিলের মাধ্যমে এক শতাংশ করে জমি দিতে হবে। দেশ স্বাধীনের পর নারায়ণগঞ্জে যে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাগানবাসীকে উচ্ছেদ করা। সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবো, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আপনারা এই সংবাদটি পরিবেশন করবেন। প্রয়োজনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও জনমত তৈরি করে আমাদের পাশে দাঁড়ান। এই মানুষগুলো খুবই অসহায়। তাদেরকে অনেক বার জিজ্ঞেস করেছি, কেনো আপনারা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করেন নি। তাদের উত্তর ছিলো, গত তিন শত বছর ধরে আমরা এখানে আছি। কখনোই ভাবিনি এই দেশ আমাদের না। রঞ্জিত বাবুকে এই কথাও বলেছি, ওয়েলফেয়ারের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা আপনারা নেন অথচ হাসপাতাল চালানোর আপনাদের কোন ট্যাক্স দিতে হয় না। তাদেরকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়েছি, তারা আমাদের সাথে একমত ছিলেন। কিন্তু যখন আমি মামলার কারনে নারায়ণগঞ্জ ছাড়া হলাম তার ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যে আওয়ামী লীগের খয়রাতি, বিনা ভোটে নির্বাচিত এমপিদের সহযোগিতায় কুমুদিনী বাসীকে মানববন্ধনের নামে ঘেরাও করে রাখে। সেই মানববন্ধন ছিলো কুমুদিনী বাসীকে ভয় দেখানোর জন্য। যে তোরা দেখ আমার সাথে কারা রয়েছে। কথা রাখেন নি সাবেক মেয়র আইভি ও সাবেক সাংসদ সেলিম ওসমান। আমাদের ভয় ছিলো, ঢাকায় যেভাবে বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আগুন দেওয়া হয় সেটা কি করবে কিনা। আল্লাহর অশেষ রহমত তেমন কিছু ঘটেনি। তাই কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা না করে ঐক্যবদ্ধ থেকে আমাদের এ আন্দোলনকে শক্তিশালী ভাবে গড়ে তুলবো।
বক্তব্য শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে শুরু করে নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে মেট্টোহলের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, গণ সংহতি আন্দোলন জেলার নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, মহাগরের সমন্বয়ক নিয়ামুর রশিদ বিপ্লব, দুলাল হোসেন, সানোয়ার আহমেদ, কালু সরদার, আলী রেজা সরদার, নাদিম, সুমন, জনি সহ কুমুদিনী উত্তর ও দক্ষিণ বাগানের কয়েক শতাধিক বাসিন্দা।

