শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে নগরীতে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত
খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে পালিত হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী।
শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সকাল ৯ টায় নগরীর ২নং রেল গেইট এলাকা থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে ভক্তবৃন্দরা নেচে গেয়ে উৎসবে মাতিয়ে তোলে পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর। এসময় রাস্তার দু’পাশে অসংখ্য সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ তা উপভোগ করে। হিন্দু নারীরা উলুধ্বনি দিয়ে শোভাযাত্রাকে স্বাগত জানায়। ঢোল ঢক্কর ও বাদ্য বাজনা নিয়ে উৎসবমুখর মিছিলে অনেকেই শ্রীকৃষ্ণ ও অন্যান্য দেবদেবী সাজে এসেছিল।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন, নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী একনাথানন্দজী। জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শোভাযাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এ.কে.এম শামীম ওসমানের, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এবং মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সেক্রেটারি কেউই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমীর খসরু, বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি ও পানামা গ্ৰুপের চেয়ারম্যান অমল পোদ্দার, বাসুদেব চক্রবর্তী, বাংলাদেশ ইয়াং মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা, দেওভোগ ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ হংষকৃষ্ণ মহারাজ, সাধু নাগ মহাশয় আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক তারাপদ আচার্য্য, ফতুল্লা থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রঞ্জিত মন্ডল, মহানগর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল, সাধারণ সম্পাদক নিমাই চন্দ্র দে, নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সম্পাদক রিপন ভাওয়াল, বন্দর থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর দাস, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল বিশ্বাস, কৃষ্ণ আচার্য প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সনাতন ধর্মের মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী। হিন্দু সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করেন। দ্বাপর যুগের শেষদিকে মহাপুণ্য তিথিতে মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে বন্দি দেবকী ও বাসুদেবের বেদনাহত ক্রোড়ে জন্ম নিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। হিন্দু পুরাণ মতে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টম তিথিতে শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাদের আরও বিশ্বাস, দুষ্টের দমন করতে এভাবেই যুগে যুগে ভগবান মানুষের মাঝে নেমে আসেন এবং সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন।


