বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন এবং ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বেসরকারিকরণের উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে সমাবেশ ও  মিছিল


Jahid প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২১, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ন / ০ Views
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন এবং ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বেসরকারিকরণের উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে সমাবেশ ও  মিছিল

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসন, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের  দাম কমানো, ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বেসরকারিকরণের উদ্যোগ বাতিল এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ শুক্রবার সকাল ১০: ৩০ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও  শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাসদ ফতুল্লা থানার সদস্যসচিব এস এম কাদির, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট মানুষের জীবনযাত্রা, শিল্প-কারখানার উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। গ্যাসসংকটে বাসাবাড়িতে দিনে রান্না করা যাচ্ছে না। শিল্প উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত। সংকটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত ও সমাধান না করে বারবার বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর সংকটের দায় চাপানো হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন, খাদ্য, বাসাভাড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। ফলে শ্রমিক-কৃষকসহ সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দীর্ঘদিনের ভুল পরিকল্পনা, আমদানি-নির্ভরতা, অপচয়, দুর্নীতি এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলন না করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি না করা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে গভীর করেছে।   একইসাথে  রাষ্ট্রীয় শিল্প-কারখানা জনগণের সম্পদ। বছরের পর বছর অবহেলা, দুর্নীতি, ভুল ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় সরকারি বিনিয়োগের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে লোকসানি করা হয়েছে। এখন সেগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগের আওতায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ৪৪টি বন্ধ, লোকসানি বা আংশিক চালু রাষ্ট্রীয় শিল্প-প্রতিষ্ঠানকে দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগের আওতায় আনার এই উদ্যোগ জনগণের স্বার্থবিরোধী। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে বেসরকারিকরণের পথে ঠেলে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি, অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন সক্ষমতা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় রেখে আধুনিকায়ন করতে হবে। জনগণের সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মুনাফার উৎস হতে  পারে না। রাষ্ট্রীয় শিল্পের জমি, অবকাঠামো ও অন্যান্য সম্পদ বেসরকারি স্বার্থে হস্তান্তর না করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় উৎপাদনশীল শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগুলোকে গড়ে তুলতে হবে।
একই সাথে নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানান দেশের গ্যাস তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্স,পেট্রো বাংলার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন।