আইনজীবীদের নিয়ে সাখাওয়াতের জন্মদিন পালন


Jahid প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২০, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন / ০ Views
আইনজীবীদের নিয়ে সাখাওয়াতের জন্মদিন পালন

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড.সাখাওয়াত হোসেন খানের ৫৮ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের নিচতলায় আইনজীবীদের নিয়ে কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় ও কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়।

কেককাটা শেষে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি সক্রিয় মানুষ। অসুস্থ হলেও যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন আইনজীবীদের পাশে আছি। আমাদের মধ্যে ঐক্য থাকতে হবে। ঐক্য না থাকলে আইনজীবীদের উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষার কার্যক্রম ব্যাহত হবে।”

‎ বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। পিপি-এপিপি নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পিপি-এপিপি পদে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। অথচ আমার কাছে ৪০০ থেকে ৪৫০ জনের মতো আবেদন এসেছে। এটি অত্যন্ত কঠিন একটি প্রক্রিয়া। তবে যারা মাঠে ছিলেন, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

‎‎তিনি আরও বলেন, পিপি-এপিপি পদ স্থায়ী নয়। সময়ের সঙ্গে এসব পদে পরিবর্তন আসবে। যারা পিপি-এপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তারা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না এবং একই সঙ্গে আইনজীবী ফোরামের নেতৃত্বেও থাকতে পারবেন না বলে জানান তিনি।

‎‎আইনজীবীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির কথা উল্লেখ করে সাখাওয়াত বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে কয়েকজন লিগ্যাল অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদ, ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইনজীবীদের কাজের সুযোগ তৈরির বিষয়েও তিনি উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

‎‎‎নারায়ণগঞ্জের আদালত স্থানান্তর প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে থাকা সব আদালত একসঙ্গে অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে না। আপাতত সাইবার কোর্ট, বিদ্যুৎ কোর্ট, নারী ও শিশু আদালতসহ কয়েকটি আদালত স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

‎‎তিনি বলেন, জেলখানার পেছনে প্রায় ৩ থেকে ৪ একর জমি রয়েছে। সেখানে বিচারকদের আবাসন, আইনজীবী সমিতির ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

‎‎সাখাওয়াত বলেন, আদালত স্থানান্তর হলে বর্তমান আইনজীবী সমিতি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য, সেটিও সরকারিভাবে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে আইনজীবীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা জজ সাহেবদের সঙ্গে কথা বলে দেখবেন। এখনই এ ধরনের কোনো কাজ হচ্ছে না। তাই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেন না।”

‎‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদালত স্থানান্তর নিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য জেনে তারপর পোস্ট করা উচিত।

‎‎আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ‎সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আমি এখানে কিছু নিতে আসিনি। আমার পরিবারের কেউও এ ধরনের কোনো সুবিধা পায়নি। আপনারাই যোগ্যতার ভিত্তিতে যাদের সুযোগ দিয়েছেন, তাদেরই দিয়েছেন। আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতে চাই। আমাদের ঐক্য অটুট রাখতে হবে।”

‎‎তিনি বলেন, “আমরা জনগণের পাশে থাকতে চাই। আমি যদি না থাকি, আমার পদও থাকবে না। তাই যতদিন দায়িত্বে আছি, আইনজীবীসহ সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করে যেতে চাই।”

‎‎মতবিনিময়কালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. সরকার হুমায়ূন কবির, সিনিয়র সভাপতি এড. আব্দুল গাফ্ফার, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এড. খোরশেদ আলম মোল্লা, সিনিয়র আইনজীবী এড. নবী হোসেনসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।