শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি’


Jahid প্রকাশের সময় : Jul ৩১, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ন /
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি’
প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
বন্ধ সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস অবিলম্বে চালু ও আইনানুগ সকল পাওনাদি পরিশোধসহ ৬ দফা দাবিতে শত শত শ্রমিকের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
‘শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি’
নারায়ণগঞ্জ, ৩১ জুলাই ২০২৬: বন্ধ ঘোষিত সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড অবিলম্বে পুনরায় চালু, শ্রম আইন অনুযায়ী সকল আইনানুগ পাওনাদি পরিশোধ এবং ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে শত শত শ্রমিকের অংশগ্রহণে আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি চলমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান হঠাৎ বন্ধ করে শত শত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পূর্বঘোষণা ছাড়াই মালিকপক্ষের এ ধরনের সিদ্ধান্ত শ্রম আইন, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে মালিকপক্ষ শ্রমিক ইউনিয়ন কিংবা শ্রমিকদের পূর্বে কোনো ধরনের অবহিত না করেই রাতের অন্ধকারে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এবং অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। পরদিন সকালে শ্রমিকরা যথারীতি কাজে এসে কারখানার গেটে অবৈধভাবে টাঙানো বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। শ্রমিকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ শ্রম আইন ও প্রচলিত বিধিবিধানের পরিপন্থী এবং তাদের জীবন-জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত।
তারা আরও জানান, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলে গত ৩০ জুলাই বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হলেও শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ, চাকরি সংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধাসহ আইনানুগ সকল পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। ফলে শ্রমিক পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, নারায়ণগঞ্জ জেলা-এর সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সভাপতি হাসনাত কবির, গাবতলী পুলিশ লাইন শিল্পাঞ্চল শাখার সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন এবং কারখানার বিভিন্ন বিভাগের শ্রমিক প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকরা বছরের পর বছর সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও মালিকপক্ষ কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই তাদের কর্মহীন করে দিয়েছে। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বেকারত্বের কারণে শ্রমিক পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, একদিকে সরকার বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলছে, অন্যদিকে একটি সচল শিল্পপ্রতিষ্ঠান এভাবে বন্ধ করে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং শ্রমিকবান্ধব নীতির পরিপন্থী। তারা সতর্ক করে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন দমন করতে কোনো ধরনের পুলিশি হয়রানি, মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা দমন-পীড়নের চেষ্টা করা হলে শ্রমিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তার জবাব দেবে।
সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের ৬ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়—
১। অবিলম্বে বন্ধ সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড পুনরায় চালু করতে হবে।
২। ভবিষ্যতে কারখানা চালু হলে বর্তমান শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বহাল নিশ্চিত করতে হবে।
৩। বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী সকল শ্রমিকের আইনানুগ পাওনাদি দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
৪। সকল শ্রমিককে নিয়োগপত্র, সার্ভিস বুক এবং চাকরির প্রত্যয়নপত্র প্রদান করতে হবে।
৫। শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি, মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি ও দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে।
৬। কোনো শ্রমিককে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা যাবে না এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানে কোনো ধরনের বৈষম্য করা চলবে না।
সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য ও আইনসঙ্গত দাবিগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন না করা হলে আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।