তাজা খবরথানার সংবাদশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দসিদ্ধিরগঞ্জ থানা
২৪ এপ্রিলকে “গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস” ঘোষণা করার দাবিতে বিক্ষোভ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রবিবার ১৯ এপ্রিল বিকাল ৫টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল চৌধুরী বাড়ী বাসস্ট্যান্ডে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ। বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস ওয়ার্কার্স এন্ড এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, জেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম সুজন, সংগঠক সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা। এ ঘটনায় ১১৩২ জন শ্রমিক নিহত এবং প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক আহত হন। কিন্তু ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয়নি এবং বহু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
তারা আরও বলেন, রানা প্লাজার পর শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকরা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। একের পর এক অগ্নিকাণ্ড ও শিল্প দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটলেও বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত রয়েছে। রানা প্লাজার আগেও ২১৭টিরও বেশি ঘটনায় প্রায় ২৫০০ শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন, কিন্তু কোনো মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়নি।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, মালিকদের অবহেলা ও রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতায় শ্রমিকদের জীবন আজও অনিরাপদ। শ্রমিকের শ্রম যেমন সস্তা, তেমনি তাদের জীবনও অবমূল্যায়িত হচ্ছে। শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
তারা উল্লেখ করেন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট ২০১৪ সাল থেকে ২৪ এপ্রিলকে “গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস” এবং “জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস” হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। অনুদান নয়, যথার্থ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
রানা প্লাজাসহ সকল শিল্প দুর্ঘটনার দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে
নিহত শ্রমিকদের জন্য আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে
জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি নির্ধারণ করতে হবে
আহত ও পঙ্গু শ্রমিকদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে
সকল কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
শ্রমিক নেতা সেলিম মাহমুদ, সীমা আক্তারসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা নিঃশর্ত প্রত্যাহার করতে হবে
মালিকের অবহেলায় শ্রমিকের মৃত্যুতে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে
প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বিমা (EIIS) বাধ্যতামূলক করতে হবে।
মানববন্ধন থেকে আগামী ২৪ এপ্রিলকে “গার্মেন্টস শ্রমিক শোক দিবস” ও “জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস” হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার আহ্বান জানানো হয়।