তাজা খবরথানার সংবাদনারায়ানগঞ্জ সদর থানামহানগররাজনীতিশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

কে হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জে নগর পিতা

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাকেচন শেষ হতে না হতেই দরজায় কড়া নাড়ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। নিয়মনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে ২৭টি ওয়ার্ডে একজন করে কাউন্সিলর ও ৯ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সহ মোট ৩৬ জন কাউন্সিলর এবং ১ জন মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করবে।
বিগত ১৭ বছর স্বেরাচারী হাসিনা সরকারের আমলে আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহন করার অপরাধে গুম খুন, মামলা হামলা সহ নানা নির্যাতনের শিকার বিএনপির স্থানীয় নেতাদের এবার মূল্যায়ন করার পালা। সেই সুবাদে কেন্দ্রীয় নেতাদের দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের দায়িত্ব পালন করা নেতারা। তবে নাসিক নির্বাচনে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সুপারিশের বিষয়ও নজর রাখবেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, নাসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি থেকে আলোচনায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব এ্যাড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা বিএনপির নেতা অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মাসুকুল ইসলাম রাজীব ও বিএনপি নেতা এবং প্রাইম গ্রুপের কর্ণধার বিশিষ্ট ব্যবসায়ি আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল।
বিগত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে তাদের রাজনৈতিক অবদান লক্ষ্য করে দেখা যায়, মহানগর বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান স্বৈরাচারী হাসিনার সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহন করার অপরাধে জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু তাই নয় মিথ্যা মামলার শিকার হওয়া দলীয় নেতাদের পক্ষে আইনী লড়াই করে তাদের জামিনে বের করার অবদানও রয়েছে তার পকেটে। তবে ক্ষমতাশীনদের সাথে আতাতের অভিযোগও উঠেছে স্থানীয় মিডিয়াতে যা সকলেই অবগত। এছাড়াও স্বৈরাচারী আমলে নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে দলের সমর্থন নিয়েও ক্ষমতাশীনদের কাছ থেকে ২ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার উপরে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু ২০১৭ সাল থেকে সক্রিয় ভাবে দলের পক্ষে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ গ্রহন করার সুবাদে দলের হাই কমান্ড তাকে সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে পরিবর্তন করে সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব প্রদান করেন। বিগত দিনে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
এবারো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে তার অবদান ছিলো চোখে পড়ার মত। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আওতাধীন ২৭ টি নাসিক ওয়ার্ড ও ৭টি ইউনিয়নের ৬৩টি ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি দিয়ে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন। শুধু তাই নয় দলের দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করার অপরাধে প্রকাশ্যে গলারটুটি চেপে টেনে হেচঁরে নিয়ে গেছেন তৎকালীন প্রশাসনের সদস্যরা।
জেলা বিএনপির নেতা অধ্যাপক মামুন মাহমুদ যিনি দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে শুরুতে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও গুরুত্বপুর্ন পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর হয়ে যায় নিয়মিত রাজপথের সৈনিক। রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহন করার অপরাধে বিভিন্ন সময় আটক হয়ে কারাগারে গিয়েছেন একাধিক বার। সেই সাথে কোমড়ে দড়ি বেধে আদালত প্রাঙ্গনে তুলতে দেখা গিয়েছে তৎকালীন সময় যা এখনও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়।
মাসুকুল ইসলাম রাজীব ওরফে ভিপি রাজীব নামেই সকলের কাছে বেশ পরিচিত। ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করা মাসুকুল ইসলাম রাজীব যিনি নারায়ণগঞ্জের গডফাদার হিসেবে পরিচিত শামীম ওসমানের ওয়ার্ডে থেকেও বিএনপির পক্ষে রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহন করেছেন নিয়মিত। আর এই অপরাধে তাকে একাধিক বার জেল জুলুমের শিকার হয়েছে, শুধু তাই নয় বিএনপির রাজনীতি করার অপরাধে বহুবার নানা অত্যাচারের শিকার হয়েছে তিনি। বছরের বেশির ভাগ সময় তাকে পরিবার পরিজন থেকে থাকতে হয়েছে বহু ধুরে।
মহানগর বিএনপি নেতা এবং প্রাইম গ্রুপের কর্ণধার বিশিষ্ট ব্যবসায়ি আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল যিনি রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ গ্রহন না করলেও দলীয় নেতাদের আর্থিক সহযোগীতা করেছেন বলে জানান রাজনৈতিক মহল। আর এই অপরাধে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একাধিক বার হামলা করেছেন তৎকালিন ক্ষমতাশীন দলের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারীরা। তবে ৫ আগষ্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর তিনি প্রকাশ্যে রাজনীতিতে রাজপথে আসেন। সেই সাথে দলের সমর্থিত প্রার্থী এ্যাড. আবুল কালামের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশগ্রহন করেন।
দরজায় কড়া নাড়ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন নেতাদের নাম মেয়র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় মিডিয়াতে প্রকাশিত হলেও সেটা নিধারণ করবেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সুপারিশ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে “কে হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের নগর পিতা।

Related Articles

Back to top button