নগর ভবনে দুবৃর্ত্তদের সশস্ত্র হামলা, আহত ১৯

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ভবনে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র দূবৃর্ত্তরা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের একটি সংগঠনের কয়েক শ’ সশস্ত্র লোকজন বিকালে নগর ভবনে এ হামলা চালায়। হামলায় সিটি কর্পোরেশনের যানজট নিরসনে কর্মরত ৬ শ্রমিকসহ ১৯ জন আহত হয়েছে।
সোমবার (১২ মে) বিকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, দুপুরে ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা চালকদের একটি প্রতিনিধি দল বিনা বাধায় শহরে চলাচলসহ চারদফা দাবি নিয়ে নগরভবনে আসে। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অফিসে না থাকায় তারা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় জেলা প্রশাসনের নেয়া সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে অটো চালকদের জানানো হয়। এরপর তারা নগর ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন। রাস্তায় অটো চালকদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের যানজট সুপার ভাইজার সম্রাটের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সম্রাটের উপর চড়াও হয়। লাঠিসোটা নিয়ে তাকে মারধর করে। পরে সম্রাটকে বাচাঁতে এগিয়ে আসে তার সহকর্মীরা। পরে অটো চালকদের একজনকে নগর ভবনে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অটোরিকশা চালকদের একদল এসে নগর ভবনে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন জানান, হামলায় মোট ১৯ জন আহত হয়। এদের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের যানজট নিরসন সুপারভাইজার সম্রাট, যানজট নিরসনকর্মী লিটন, পলাশ, শাওন, পারভেজ, মোঃ আলী। এছাড়াও আহতদের মধ্যে রয়েছেন যানজট নিরসনে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করা ছাত্র প্রতিনিধি-মাহী, ফারাবী, মিরান, সিমলা, মুহিন, নাহিদ, নাঈম, সানভী, সাথী, ইমন, শিপন, রাতুল ও শাহীন।
তিনি জানান, এদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইজিবাইক চালকদের অভিযোগ, রিপন (২৮) ও সুমন (৩২) নামে তাদের দু’জন সহকর্মীও আহত হয়েছেন।
ঘটনার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান ফটক টপকে তালা ভাঙারও চেষ্টা করতেও দেখা যায়। পরে তারা নগরভবনের ভেতর ঢুকে ভাঙচুর চালান।
আহত সুপারভাইজার সম্রাট ইসলাম বলেন, যানজট নিরসন কর্মীদের নিয়ে নগরভবনে ঢোকার পথে তাদের উপর লাঠিসোটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান ইজিবাইক চালকরা। তাকে রক্ষা করতে গেলে অন্যদেরও মারধর করা হয়।
এদিকে, হামলার ঘটনার পর আহতরা অন্তত দুই ঘন্টা নগরভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন। পাশে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে থাকলেও নগরভবনের সামনে ইজিবাইক চালকদের অবস্থান থাকায় তারা সেখানে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেননি। পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির অতিরিক্ত সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য যাবার সুযোগ পান।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের চিহিৃত করা হবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সচিব নূর কুতুবুল আলম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামী করে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। রাতেই মামলা দায়ের করা হবে।
