তাজা খবরথানার সংবাদফতুল্লা থানাশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

কুতুবপুরে সন্ত্রাসী খালেক ও তার ৩ সহোদরের  হাত থেকে মুক্তি চায় সাধারণ মানুষ 

ফতুল্লা প্রতিনিধি:
কুতুবপুরে মূর্তমান আতংকের নাম  খালেক,মালেক, আনোয়ার ও দেলোয়ার হোসেন। চাঁদাবাজ,সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু এই চৌরত্নের  জিম্মিদশা থেকে মুক্তি মিলছে না সাধারণ মানুষের।সন্ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম  করে  সাধারণ মানুষের উপর ষ্টিম রোলার চালিয়ে জমি দখল, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজীর মহোৎসবে মেতে উঠেছে তারা।এলাকার নিরীহ মানুষ  সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু খালেক,মালেক,  আনোয়ার, দেলোয়ার এর  ভয়ে  কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না।যদি কেউ মুখ খোলে তাহলে তাকে হামলা মামলার শিকার হতে হয়।এই চৌরত্নের  সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে মুন্সিবাগ, দৌলতপুর, শহীদনগর,আদর্শ নগর সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকার মানষ সবসময়ই থাকে অজানা আতঙ্কে।
এলাকাবাসী জানায়,কেউ যদি এলাকায় জায়গা জমি কিনতে আসে তাহলে সন্ত্রাসী খালেককে নজরানা দিয়ে কিনতে হয়,।বাড়ি করার জন্য ইটবালু সিমেন্ট, রড থেকে শুরু করে সমস্ত কিছুই তার ছোট ভাই মালেক, আনোয়ার ও দেলোয়ার এর নিকট থেকে নিতে বাধ্য করা হয়। সাধারণ মানুষ একখণ্ড জায়গা কিনেও নিজের ইচ্ছেমতো স্বাধীন ভাবে কিছু করতে পারে না।
জানা গেছে, ২০২২২সালের ২২ জুন আবুল হোসেন নামের এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর উপরে সন্ত্রাসী হামলা চালায় খালেক মালেক, আনোয়ার , দেলোয়ার ও  সন্ত্রাসী বাহিনীরা। এ বিষয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আবুল হোসেন ফতুল্লা মডেল থানা একটি অভিযোগ করলে, অভিযোগের ভিত্তিতে খালেককে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ।বেশ কয়েকদিন জেল খেটে এলাকায় এসে আবারো পুনরায় সন্ত্রাসের রাম রাজ্য কায়েম করে এই চৌরত্ন।।এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় একের পর এক ষড়যন্ত্র করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে, কখনো মিথ্যা মামলা কখনোবা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আবুল হোসেনকে।
পরে বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসলে পুরো মুন্সিবাগ এলাকার সকল পঞ্চায়েতের লোকেরা ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসী খালেক,  মালেক, আনোয়ার ও দেলোয়ার এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে । এরপর থেকে বেশ কয়েক মাস গাঁ ঢাকা দিয়েছিল সন্ত্রাসী খালেক,  মালেক, আনোয়ার ও দেলোয়ার । সেসময় খানিকটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এলাকার সাধারণ মানুষ। স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলতে না ফেলতেই আবারো এলাকায় ফিরে আসে এবং শুরু করে জবর দখল, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২০২৩ সালের  ২৫ শে নভেম্বর সোর্স  রবিনকে দিয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আবুল হোসেনের সিমেন্টের দোকানে ১০০ পিস ইয়াবা রেখে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে এই চৌরত্ন।
বিষয়টি যখন প্রশাসন বুঝতে পারে তখন সেই  সোর্সকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আবুল হোসেন ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরও থেমে নেই এই চৌরত্নের সন্ত্রাসী কর্মকা্ন্ড।। এলাকায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য ২০২৩ সালের ২৯ শে নভেম্বর  মুন্সিবাগ চৌরাস্তা মোড়ে বহিরাগত এলাকার লোকজন এনে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করার জন্য পুরো এলাকায় মহড়া দেয়।এতে আবারো এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে অজানা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন
সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আমরা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছিলাম। সেই মিছিলের পরিপ্রেক্ষিতেই আমাদেরকে ভয় ভীতি দেখানোর জন্য এলাকায় বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে মিছিলের মাধ্যমে আমাদেরকে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি প্রদান করে।
সুত্রে আরো জানা গেছে কুতুবপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী আব্দুল খালেক তার ভাই মালেক, আনোয়ার, দেলোয়ার, আব্দুল খালেক এর বোন জামাই  বাদশা, সুমনসহ উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি মুন্সিবাগ,শহীদ নগর, আদর্শ নগর, দৌলতপুরের সাধারণ মানুষ।  এছাড়াও কুতুবপুরে সংঘটিত কবীর হত্যা, হিন্দু স্বপন হত্যা, ভূট্রো হত্যা,ছাটি বাবুল, খালেকের কথামতো কাজ না করায় ওয়াসার পুকুরে মেরে ফেলে রাখে জুয়েলকে এবং সেই লাশ মাগুর মাছে খায়,এছাড়াও ,ইদ্দি, নিরব, হত্যাসহ চাদাঁবাজী, ডাকাতি, ছিনতাই মামলা রয়েছে ফতুল্লা, শ্যামপুর, ডেমড়া থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানায়। কুতুবপুরে যুবলীগের সাধারন সম্পাদক খালেকের বিরুদ্ধে ফতুল্লা, শ্যামপুর, ডেমড়া থানায় রয়েছে প্রায় এক ডজন খানেক মামলা।ফতুল্লা থানার মামলার মধ্যে মামলা নং ৩(৯)৯৫,২৬(১)৯৫, ২৩(৩)৯৫, ১৯(২)৯৫, ৪৪(৮)০৪, ২০(১০)৯৮,৩৩(৪)৯৯,শ্যামপুর থানার মামলা ২৪(১)৯৯, ১৪০(১২)৯৭, ফতুল্লা থানার মামলা ৩৬(১০)০১,ডেমড়া থানার মামলা নং ৩৯(১০)৯৮,৯৯(১০)৯৯।  এছাড়াও মাদক ব্যবসা পরিচালনা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা এবং অবৈধ অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে খালেকের ভাই মালেকের বিরুদ্ধে।

এই চৌরত্নের এক রত্ন ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ আনোয়ার হোসেন রনি একটি সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করে মো: মিজান মোল্লাকে নিয়ে। ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ বাদাম তলা এলাকায় একটি অফিস ভাংচুর এর নামে উত্তর পূর্ব মুন্সিবাগ সমাজ উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: মিজান মোল্লার বিরুদ্ধেও ২১ মা্র্চ একটি সাজানো  মামলা করে  ভূমিদস্যু খালেক ও মালেকের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন রনি। ওই মার্কেটের মালিক জায়েদ আলী মোল্লা  জানান এমন ঘটনা ঘটেনি,এমনকি পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকরাও জানান,ওইদিন এমন কোন ঘটনা ঘটেনি এটা ওদের সাজানো নাটক।

জানা গেছে ঘটনার দিন মো: মিজান মোল্লা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে  ছিলেন। এলাকায় এই চৌরত্ন তাদের আধিপত্য  বজায় রাখতে এবং মো: মিজান মোল্লাকে ঘায়েল করার জন্যই এই মিথ্যে মামলায় তাকে জড়ানো হয়।মোদ্দা কথা, এই চৌরত্নের বিপক্ষে কেউ মুখ খুলতে গেলেই তার টুটি চেপেধরা হয় আর জড়িয়ে দেয়া হয় মিথ্যে মামলা মোকদ্দমায়।শুধু এখানেই শেষ নয় ভোলা জেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো: মিজানুর রহমান শহীদ নগরের নাসিরাবাদ এলাকায় ২০১৪ সালে ১৮ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন।পরবর্তীতে তিনি সেই জায়গায় বালু ভরাট করতে আসলে সন্ত্রাসী আনোয়ার হোসেন রনি সেই জায়গায় বালু ভরাট করে দেওয়ার কথা বলে  মিজানুর রহমানের নিকট থেকে দফায় দফায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এবং সেই টাকা  আত্মসাৎ করার ফন্দি এটে ২০২৪ সালের ১৬ জুন রাতের আঁধারে মিজানুর রহমানের বাউন্ডারি ওয়াল এবং দুইটি রুম ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে উল্টো মিজানুর রহমানের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়।মিজানুর রহমান এই ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যু আব্দুল খালেক, মালেক,  আনোয়ার ও দেলোয়ার এর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হওয়া এলাকাবাসী  নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের রূপকার, মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আপোষ হীন নেতা  সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ্ব এ কে এম শামীম ওসমান ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মনিরুল আলম সেন্টুর কাছে জোরালো দাবি জানান অচিরেই এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাদেরকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হোক।

Related Articles

Back to top button