জাতীয়তাজা খবরবিভাগীয় সংবাদময়মনশিং বিভাগশীর্ষ সংবাদসম্পাদকের পছন্দ

মহেশপুরে ২৪টি অবৈধ ইটভাটার মধ্যে ৩টিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিতর্কিত অভিযান, ২ কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্যের পায়তারা!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ২৪টি অবৈধ ইট ভাটার মধ্যে মাত্র ৩টিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিতর্কিত অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এমন পাতানো অভিযানের নামে জেলা জুড়ে চলছে কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের পায়তারা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলার মহেশপুর উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে চলছে ২৪টি ইটভাটা।
অবৈধ এসব ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও তা মানা হচ্ছে না। বরং ইটের মৌসুম আসাতে ভাটাগুলোতে কাজ চলছে জোরেশোরে। আর তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নিতেও দেখা যাচ্ছে না প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম। অবৈধ এসব ইটভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে হাজার হাজার মণ কাঠ। কয়লার দাম বাড়তি থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দেদারছে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি বৃক্ষ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইট ভাটার একাধিক মালিক জানান, বিগত সময়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক অভিযান পরিচালিত হলে বেশ কিছু ইটভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়। যে কারনে সংশ্লিষ্ট ভাটা মালিকগণ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হন। ফলে এ বছর তারা ইটভাটা মালিক সমিতির মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করে ভাটা পরিচালিত করছেন। ইটভাটা মালিক সমিতি পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করার নামে ভাটা প্রতি দেড় থেকে ২ লাখ টাকা উত্তোলণ করেছে বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। এ জেলায় মোট ১২৫টি ভাটার মধ্যে ১১৩টিই অবৈধ। ভাটা প্রতি যতি দেড় থেকে দুই লাখ টাকা করে উত্তোলণ করা হয় তাহলে সর্বমোট প্রায় ২ কোটি টাকা উত্তোলণ করা হয়েছে। সুধীমহলের প্রশ্ন পরিবেশ অধিদপ্তরের নামে উত্তোলিত  প্রায় ২ কোটি টাকা গেল কোথায়? যদি পরিবেশ অধিদপ্তর মোটা অংকের এই টাকা না নিয়ে থাকে তাহলে অভিযান বন্ধ রয়েছে কেন? আর কিভাবেই বা চলছে এসব অবৈধ ইটভাটা? এমন প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।

এদিকে ভাটা মালিকদের ভয়ভীতি দেখাতে গত ২৭ ডিসেম্বর ২২ তারিখে পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় ও ঝিনাইদহ কার্যালয় সমন্বিত ভাবে জেলার মহেশপুর উপজেলায় বিতর্কিত অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে দেখা যায়, ২৪টি অবৈধ ইটভাটা থাকলেও মাত্র ৩টি ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে একটি বন্ধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। যা নিয়ে জেলা জুড়ে বির্তকের সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, অভিযানে নস্তী এলাকার মেসার্স রাজ ব্রিক্সস ও বস্তিলা এলাকার বন্ধ থাকা ফাতেমা বিক্সস ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া শ্রীরামমপুর এলাকার মেসার্স ইউসুফ ব্রিক্সস-২ কে ৩ লাখ জরিমানা করা হয়। এ অভিযানে আতংকিত হয়ে পরে ভাটা মালিকগণ ভাটা মালিক সমিতির মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করে ভাটা পরিচালিত করছে বলে জানা গেছে।
মহেশপুরের নস্তী এলাকার মেসার্স রাজ ব্রিক্সস এর ক্ষতিগ্রস্থ মালিক বসির উদ্দীন জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বার বার আমাকে দেখা করতে বলা হয়েছিলে। আমি দেখা করতে দেরি করায় আমার ভাটায় অভিযান চালিয়ে সব ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। মহেশপুরে আরো ২৩টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে অভিযান না করে চলে যায়।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা যায় না এবং জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় কাঠের ব্যবহার নিষিদ্ধেরও বিধান রয়েছে। কিন্তু শীত মৌসুমকে সামনে রেখে অবৈধ ইটভাটাগুলো কার্যক্রম শুরু করেছে। এমনকি ইটভাটাগুলো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে বিভিন্ন গাছের কাঠ।

পরিবেশ অধিদপ্তর ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক শ্রীরুপ মজুমদার বলেন, জেলায় ১১৩টি অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। যাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে খুব শীঘ্রই এসব ইটভাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Related Articles

Back to top button