দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যার বিচার ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ভালুকায় ‘তৌহিদী জনতা’ নামধারীরা গণপিটুনি দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যার বিচার ও নিহতের পরিবারকে এক জীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সারাদেশে উদ্দেশ্যেমূলকভাবে অব্যাহত হামলা, খুন – ‘মব সন্ত্রাস’ এর মাধ্যমে ব্যক্তি, গণমাধ্যম ও সংগঠন অফিসে হামলা, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ।
জোটের সমন্বয়ক ও গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের কার্যকরী সভাপতি শামীম ইমামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য যথাক্রমে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্টস এন্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ ইয়াছিন মিয়া, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, গার্মেন্টস-টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিমা আক্তার ও বাংলাদেশ সোয়েটার গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এএএম ফয়েজ হোসেন প্রমুখ। সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডাঃ হারুন অর রশিদ, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম শামীম।
বক্তাগণ ‘তৌহিদী জনতা’ নামধারী মব সন্ত্রাসীদের হাতে গার্মেন্টস শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসের বর্বরোচিত নৃশংস হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহতের পরিবারকে এক জীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ (এক কোটি টাকা) দেওয়ার জোর দাবি করেছেন।
বক্তাগণ আরও বলেন, জুলাইয়ের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছিল শ্রমিকসহ শ্রমজীবী জনগণ। অথচ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আসা বর্তমান সরকার পেটের দায়ে বকেয়া মজুরির জন্য আন্দোলনরত শ্রমিকের বুকেই প্রথম গুলি চালিয়েছিল। বর্তমানে পূর্বের স্বৈরাচারী সরকারের আমলের মতো শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত, শোষিত-বঞ্চিত।
প্রশাসনের নাকের ডগায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার পত্রিকা, উদীচী, ছায়াউ অফিসসহ বিভিন্ন অফিস, নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবিরসহ টার্গেট ব্যক্তির উপর মব সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে- করছে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র-সরকার কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না- যা সন্ত্রাসীদের আরো বেপরোয়া ও উৎসাহিত করছে। নেতৃবৃন্দ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এহেন ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মব সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।


