গ্যাং মিস্ত্রি কামালের নিদের্শে রেলওয়ের মালামাল চুরি করে বিক্রির চেষ্টা

খবর নারায়ণগঞ্জ.কম :
২০২৪ সালে ৫ই আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোপের মুখে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতন ও দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও, তাদের দোসররা এখনো সক্রিয় রয়েছে। প্রায় প্রতিটি সেক্টরেই রয়েছে ফ্যাসিবাদ সরকারের এজেন্টদের আনাগোনা। আর এই সকল দোসরদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন কথিত কিছু নামদারী বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতারা।এরই ধারাবাহিকতায় লক্ষ্য করে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে মানেই হচ্ছে চাঁদাবাজীর অভয়ারন্য। আর এই চাঁদাবাজীর মহোৎসবে মেতে উঠেছে আওয়ামী দোসরদের পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু দায়িত্বরত কর্মচারী। তাদের দেয়া তথ্যসূত্রে জানা যায়, সদ্য বদলি হয়ে আসা লাইন মিস্ত্রি গ্যাং নং ৫ কামাল খাঁন। যার রাজনৈতিক পরিচয় ৫ই আগষ্ট পযর্ন্ত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি। নানা অপকর্মের অপবাদে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বদলি করা হয়েছিলো।
কিন্তু নিজের আখের গুছাতে ৫ই আগষ্টের পর আবারও উৎকোচের বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জে বদলি হয়ে আসে কামাল খান। নারায়ণগঞ্জে বদলি হয়ে এসেই অল্প কয়েকদিনে চাঁদাবাজীর ভাগের লাখ টাকা নিজের পকেটে ভরে নিয়েছেন। রেলওয়ের জমিতে দোকান তুলে মাসোহারার পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়াও রেলওয়ের কিছু মালামাল যেগুলো টি/২ এলসি গেইটের ট্রাফিক গেইটম্যানের কাছে সংরক্ষিত ছিলো সেগুলো অস্থায়ী গেইটম্যান মাহবুব বিক্রির উদ্দেশ্যে চুরি করে। পরে সেগুলো ভাঙ্গারী দোকানে বিক্রির জন্য দিলে দোকানদার মালামালগুলো স্টেশন মাষ্টার অফিসে জমা প্রদান করে। এসময় তারা জানায়, অস্থায়ী গেইটম্যান মাহাবুব বলেছে মিস্ত্রি কামাল মালামালগুলো বিক্রির জন্য দিয়েছে। এমন সব ঘটনা অহরহ ঘটছে।
শুধু তাই নয় তার চাঁদাবাজীর সীমানাকে প্রসার করতে কাকড়ার ন্যায় চতুর পাশে নিজের হাত পা ছড়িয়ে নিচ্ছেন নিজের ইচ্ছে মত। তার কাছে অনেকটাই ধরাশাই বর্তমান জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক দলের কমিটির অনেকেই।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, এতদিন স্বৈরাচারী সরকারের নেতাদের চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে কথা বললেই বদলির পাশাপাশি নানা হয়রানীর শিকার হতে হতো। ৫ আগষ্টের পর অনেকটাই আশায় বুক বেঁধে ছিলাম স্বৈরাচার মুক্ত দেশে চাঁদাবাজ মুক্ত রেলওয়ে পাবো। কিন্তু সেটা আমাদের জন্য দিবা স্বপ্নে পরিণত হলো। আমরা রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আহবান করবো এই সকল চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য। যাতে করে বাংলাদেশ রেলওয়ে সংস্থায় কর্মরত প্রতিটি কর্মচারী যেন তাদের দায়িত্ব নিষ্ঠিার সাথে পালনে কোন বাঁধাগ্রস্ত না হয়।

